
রঙিয়া (অসম), ১৯ জুলাই (হি.স.) : কামরূপ গ্ৰামীণ জেলার অন্তৰ্গত রঙিয়ায় আট দিন ধরে নিখোঁজ শিশুকে কেন্দ্ৰ করে চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। নিখোঁজ ৮ বছর বয়সি চন্দন তালুকদারকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে রফিকুল আলি নামেৰ এক যুবককে শনিবার রাতে গ্ৰেফতার করেছে রঙিয়া পুলিশ। ঘটনার তদন্তে অভিযুক্তকে নিয়ে গুয়াহাটিতেও তালাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রঙিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা চন্দন তালুকদার গত ১৩ জুলাই থেকে নিখোঁজ। শিশুটির মা দীপা তালুকদার রঙিয়া থানায় রফিকুল আলির বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করে পুলিশ তদন্ত-অভিযান চালিয়ে গতকাল শনিবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
তদন্ত চলাকালীন রফিকুল আলির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, সে চন্দনকে কৌশলে গুয়াহাটিতে নিয়ে গিয়ে তাকে খুন করে মাছখোয়া এলাকার লাচিতঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে ফেলে দিয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল আলি নাকি দাবি করেছে, গুয়াহাটির লাচিত ঘাটে স্নান করার সময় শিশুটি নদীর স্রোতে ভেসে যায়। অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযুক্ত তাঁদের সামনে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এই দুই ভিন্ন বক্তব্যের সত্যতা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
রফিকুল আলির বাড়ি বরপেটা জেলায়। বর্তমানে সে রঙিয়ার উদিয়ানা (গুরুকুচি) এলাকায় ভাড়াঘরে থাকত। সে রঙিয়া, কামাখ্যা ও গুয়াহাটি রেলস্টেশনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করত। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মাদকাসক্ত বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে, নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে গুয়াহাটির মাছখোয়া এলাকার লাচিত ঘাটে আসাম পুলিশ ও এসডিআরএফ যৌথভাবে তালাশি অভিযান চালাচ্ছে। এখনও শিশু চন্দনের কোনও সন্ধান মেলেনি।
পুলিশ রফিকুল আলির বিরুদ্ধে হত্যার মামলা রুজু করে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। শিশুটির সন্ধান এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় রঙিয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস