
পশ্চিম বর্ধমান, ১৯ জুলাই (হি.স.): বহুজাতিক বিমান যুদ্ধাভ্যাস 'পিচ ব্ল্যাক'-এ অংশ নিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা এয়ারফোর্স স্টেশন থেকে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিল ভারতীয় বায়ুসেনার একটি দল। ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের দল ইতিমধ্যেই সুরক্ষিতভাবে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে গেছে এবং সেখানে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহড়ায় নিজেদের অংশগ্রহণও শুরু করে দিয়েছে।
আগামী ২০ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অবস্থিত রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ারফোর্স বেসে এই মেগা মহড়াটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এবারের মহড়ায় বিশ্বের ১৯টি দেশের বায়ুসেনা অংশ নিচ্ছে। ভারতীয় দলে অভিজ্ঞ পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান, কন্ট্রোলার এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা সামিল রয়েছেন। এই যুদ্ধাভ্যাসে ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের অত্যাধুনিক ‘রাফাল’ যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে উড়বে। পাশাপাশি রাফালকে সহযোগিতা করার জন্য সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-III এবং মাঝআকাশে জ্বালানি ভরার জন্য আইএল-৭৮ (Il-78) বিমানও এই দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, 'পিচ ব্ল্যাক' হলো বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক বহুজাতিক বিমান যুদ্ধাভ্যাস। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের বায়ুসেনার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো, যৌথ অভিযানের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, আধুনিক যুদ্ধকৌশল ও প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং ইন্দো-প্যাসিফিক (ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয়) অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও মজবুত করা। এই সমগ্র অভিযানের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের কলাইকুন্ডা এয়ারফোর্স স্টেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এখান থেকেই ভারতীয় বায়ুসেনার দলটি সরাসরি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়।
কলাইকুন্ডা এয়ারবেসটি ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান কৌশলগত ঘাঁটি এবং আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়া আয়োজনের জন্য এর একটি বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। ফলে এই বিশ্বমানের সামরিক মহড়ার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নামও সরাসরি জড়িয়ে গেল। উল্লেখ্য, ভারতীয় বায়ুসেনা এর আগে ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও 'এক্স পিচ ব্ল্যাক'-এ অংশ নিয়েছিল। ২০২৬ সালে ফের একবার ভারতের এই অংশগ্রহণ বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং যুদ্ধকালীন কার্যক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি