'স্বাস্থ্য নয়, পদযাত্রা ঠেকাতেই সোনমকে সরানো হয়েছে; পছন্দের হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাই'— গীতাঞ্জলি আংমো
নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (হি.স.): যন্তর-মন্তরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর স্ত্রী ড. গীতাঞ্জলি আংমো। সফদরজং হাসপাতাল থেকে তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের
'স্বাস্থ্য নয়, পদযাত্রা ঠেকাতেই সোনমকে সরানো হয়েছে; পছন্দের হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাই'— গীতাঞ্জলি আংমো


নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (হি.স.): যন্তর-মন্তরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর স্ত্রী ড. গীতাঞ্জলি আংমো। সফদরজং হাসপাতাল থেকে তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন নিয়ে আদালতে শুনানির মধ্যেই তিনি দাবি করেছেন, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকারের উদ্বেগের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর অভিযোগ, স্বাস্থ্যগত কারণ নয়, বরং সোনম ওয়াংচুকের প্রস্তাবিত পদযাত্রা রুখতেই তাঁকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রবিবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, সরকার যে দাবি করছে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল, তা সঠিক নয়। তাঁর দাবি, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগের সন্ধ্যায় হওয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ওয়াংচুকের সব শারীরিক মান স্বাভাবিক ছিল। পটাশিয়ামের মাত্রা ছিল ৪.৩ এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফলও স্বাভাবিক ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকত, তবে কেন সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীদের পাঠানো হল? কেন তাঁকে জোর করে স্ট্রেচারে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল? তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে এসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারতেন এবং কোনও সমস্যা ধরা পড়লে পরিবারকে বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে পারতেন। সেটাই একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতি হতো।

গীতাঞ্জলি আংমোর অভিযোগ, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখানো হলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সোনম ওয়াংচুকের নির্ধারিত সংসদ অভিযাত্রা বা পদযাত্রা রুখে দেওয়া। তাঁর দাবি, প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, সোনম ওয়াংচুক পদযাত্রা শুরু করলে শুধু দিল্লি নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক মানুষ সেই আন্দোলনে যোগ দিতেন। সেই আশঙ্কাতেই তাঁকে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবার সোনম ওয়াংচুককে নিজেদের পছন্দের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করাতে চায়, যেখানে তাঁরা বেশি আস্থা ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের বর্তমান পরিবেশের প্রভাবেই ওয়াংচুকের রক্তচাপ বেড়েছে। সাধারণত ১১০/৭০ থাকলেও সর্বশেষ পরীক্ষায় তা ১২৫/৮৫ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, টানা অনশনের মধ্যে শনিবার দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এদিকে, ওয়াংচুককে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে শুনানিও চলছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande