
কলকাতা, ২০ জুলাই (হি. স.): আরজি কর হাসপাতালে নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা (রত্না দেবনাথ)-কে তাঁর মেয়ের বিচার পাওয়ার বিষয়ে পূর্ণ আশ্বাস দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় নিজের বক্তব্যের পর, পানিহাটি কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপি বিধায়ক তথা নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ও বিজেপি পরিবার তাঁর পাশে রয়েছে এবং তাঁর মেয়ের হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা হবে।
বিধানসভা সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তদন্তে যে গাফিলতি করা হয়েছিল, তা তাঁর সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না এবং এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা জানান, এই ঘটনায় যুক্ত সমস্ত অপরাধী শাস্তি পাবে। তিনি বলেন, ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ করেছেন এবং সরকার পীড়িত পরিবারকে ন্যায়বিচার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে ডিউটিতে থাকা এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মামলায় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে এই ঘটনায় এমন অভিযোগও সামনে আসে যে, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট আয়োজিত 'রাত দখল' কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে হাসপাতাল চত্বর থেকে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেদিনই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও নিহত চিকিৎসকের প্রকৃত বিচারের দাবি ক্রমাগত উঠতে থাকে।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে বিধানসভায় পৌঁছান। রাজনৈতিক মহলে এটিও চর্চার বিষয় ছিল যে, তীর্থঙ্কর ঘোষের বাবা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে চিকিৎসকের মৃতদেহের তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পাদন করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠেছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি