
ভোপাল, ২১ জুলাই (হি.স.): মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় পাস হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিধানসভায় পাস হয়েছে ইউসিসি বিল। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেছেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাস হওয়াটা মধ্যপ্রদেশের সাড়ে আট কোটি মানুষের জন্য সত্যিই এক স্মরণীয় ও গৌরবময় দিন। মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় এই আইন প্রণয়ন 'এক দেশ, এক সংবিধান, এক পতাকা, এক নেতা'—ড. ভীমরাও আম্বেদকর, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির দেখানো এই আদর্শের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। এই পদক্ষেপ নারীদের বহুবিবাহজনিত দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করবে। আমি সমগ্র রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানাই এবং কংগ্রেসের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই—তারা কেন সর্বদা হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করে? কংগ্রেসের এই ত্রুটিপূর্ণ মানসিকতার কারণেই স্বাধীনতার সময় দেশভাগ হয়েছিল। বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাস হওয়ার বিষয়ে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বিশ্বাস সারং বলেন, মধ্যপ্রদেশে নারীরা আর কোনও ধরনের নির্যাতন অথবা হয়রানির শিকার হবেন না। কোনও পুরুষই আর চারবার বিয়ে করতে পারবেন না। 'হালালা'-র মতো প্রথার অবসান ঘটবে। সর্বত্র সমতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
এই বিলের প্রতিবাদ করে কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ বলেন, সংশোধনীটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। আমি আমার প্রস্তাবগুলি পেশ করেছিলাম। কিন্তু দুই ঘণ্টা পর এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সেখানে চরম অনমনীয় মনোভাব কাজ করছিল। সংবিধান আর মানা হচ্ছে না, এমনকি সংসদীয় রীতিনীতিকেও সম্মান করা হচ্ছে না। একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল কোনোভাবে বিলটি পাস করিয়ে নেওয়া। কংগ্রেস বিধায়ক জয়বর্ধন সিং বলেছেন, ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিজেপি সরকারের আচরণ অত্যন্ত আপত্তিকর। রাজ্যের ও দেশের যুবসমাজ বলছে, তারা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চায় না। তার পরিবর্তে তারা চায় অভিন্ন শিক্ষা বিধি এবং অভিন্ন স্বাস্থ্য বিধি। অথচ বিজেপি এখানে লিভ-ইন সম্পর্কের কথা বলছে। এগুলো খুবই তুচ্ছ বিষয়। কিন্তু সমস্যা হলো, বিজেপি সরকারের মানসিকতা অত্যন্ত সংকীর্ণ। দেশজুড়ে ইউসিসি কার্যকর করার বিষয়ে কি মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না, যে কারণে তিনি নিজেই এখানে এটি কার্যকর করছেন?
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ