
কলকাতা ২৩ জুলাই (হি.স) : উত্তর ২৪ পরগনার সুতিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে প্রকাশ্যে এল এক চাঞ্চল্যকর মোড়। ঘটনা ঘটার দীর্ঘ ১৪ বছর পর, এই হত্যাকাণ্ডে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ল। বরুণ বিশ্বাসের সহযোগী তথা শিক্ষক নন্দদুলাল দাস সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এই মূল চক্রান্তের নেপথ্যে ছিলেন।
অভিযোগপত্রে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বনগাঁর পুলিশ সুপার কলিতা দাশগুপ্তের কাছে একটি লিখিত চিঠি জমা দেন নন্দদুলাল দাস। তাঁর মূল দাবি, ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কারণেই সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই নিজের এই লিখিত অভিযোগটিকে একটি নতুন এফআইআর হিসেবে গণ্য করে পুরো ঘটনাটির নতুন করে ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
নন্দদুলাল দাসের আরও অভিযোগ, বরুণ বিশ্বাসের হত্যার পর তিনি সরব হওয়ায় তৃণমূল জমানায় তাঁকেও নানাভাবে নিগ্রহ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। এমনকি তাঁকে মাওবাদী তকমা দিয়ে একাধিক ভুয়া ও সাজানো মামলায় ফাঁসানো হয় বলে তিনি জানান। মূল চক্রান্তকারীদের বাঁচাতে এবং আসল সত্য আড়াল করতে তৎকালীন সময়ে বামপন্থীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
অভিযোগপত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ছাড়াও তপন সিংহ, প্রদীপ ঘোষ, বিষ্ণু ঘোষ, সুখেন বালা, ধ্যানেশ গুহ, মিহির বিশ্বাস ও দেবেন ঘোষসহ একাধিক ব্যক্তির নাম অভিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার সুতিয়া গণধর্ষণ মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী ও প্রতিবাদী চরিত্র শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা সে সময় গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সঠিক বিচার না মেলায় সম্প্রতি বরুণ বিশ্বাসের পরিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। এর পরেই রাজ্য সরকারের নির্দেশে এই মামলায় দেওরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশেষ সরকারি আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) হিসেবে নিয়োগ করা হয়। শুক্রবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে এই মামলার ৩৭ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের এতদিন পর নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হলে মূল চক্রান্তকারীরা শেষ পর্যন্ত ধরা পড়বে—এমনটাই আশা করছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি