কেন্দ্র থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার সাহায্য মিলেছে, না হলে পশ্চিমবঙ্গ দেউলিয়া হয়ে যেত: স্বপন দাশগুপ্ত
কলকাতা, ২৫ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত শনিবার বিধানসভায় দাবি করেন যে, মে মাসে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্য কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে ৭০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। তিনি বলেন, এই সহায়তা না পে
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত


কলকাতা, ২৫ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত শনিবার বিধানসভায় দাবি করেন যে, মে মাসে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্য কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে ৭০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। তিনি বলেন, এই সহায়তা না পেলে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠত এবং একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিচালনা প্রভাবিত হতো।

বিধানসভায় বিনয়োগ বিলের ওপর আলোচনাকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার রাজ্যের ওপর ৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে বাজেট সংক্রান্ত শৃঙ্খলা মেনে চলা হয়নি, যার কারণে রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সরকারি তহবিলের ব্যবহার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের তোলা প্রশ্নের জবাবে দাশগুপ্ত বলেন, এটি বিনিয়োগ বিল, অপব্যবহার বিল নয়। তিনি বলেন, সরকার আর্থিক সম্পদের স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারকে কিছু অতিরিক্ত আর্থিক সংস্থানও রাখতে হবে। এর মধ্যে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের প্রস্তাবিত গাড়ি নির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কিত জমি বিবাদে কোম্পানির পক্ষে আসা সালিশি রায়ের বিষয়টিও রয়েছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তকে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম (ডব্লিউবিআইডিসি) কলকাতা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের পর টাটা মোটরস সিঙ্গুর থেকে তাদের ন্যানো কার প্রকল্প সরিয়ে গুজরাটের সানন্দে নিয়ে গিয়েছিল, যার পর এই আইনি বিবাদ দীর্ঘায়িত হয়।

আলোচনাকালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ ভারী শিল্প, পঞ্চায়েতি রাজ এবং আইনশৃঙ্খলা সহ একাধিক ক্ষেত্রে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছিল। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের র্যাঙ্কিং কেন্দ্র সরকার রাজ্যগুলির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করে। তিনি বলেন, সেই তথ্য যদি সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গ বহু রাজ্যের চেয়ে এগিয়ে থাকা উচিত ছিল।

অর্থমন্ত্রী ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) ক্ষেত্রের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, আগের সরকার রাজ্যে ৯৩ লক্ষ এমএসএমই থাকার দাবি করেছিল, কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে মাত্র ৯৯ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানই বাস্তবে চালু রয়েছে। তাঁর মতে, এটি পূর্ববর্তী সরকারের দাবি এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এক বড় ব্যবধানকে তুলে ধরে।

আলোচনার পর বিধানসভায় বিনয়োগ বিল পাস হয়ে যায়। এর সাথে সাথেই রাজ্য সরকার সঞ্চিত তহবিল থেকে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের সংবিধিবদ্ধ অনুমতি পেয়ে যায়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande