
কলকাতা, ২৫ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শনিবার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এই সংশোধনীর অধীনে গ্রাম প্রধানদের আর্থিক ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একাধিক পঞ্চায়েতে প্রধানদের কাজের জটিলতার কারণে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল, তাই প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সুচারু রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিলের ওপর আলোচনার পর ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে ১৬৯ জন বিধায়ক ভোট দেন, অন্যদিকে ৩০ জন সদস্য এর বিরুদ্ধে ভোট দেন এবং ৩২ জন বিধায়ক ভোটদানে অনুপস্থিত ছিলেন।
বিলের আলোচনা চলাকালীন জবাব দিতে গিয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, এই ব্যবস্থাটি সাময়িক এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো পঞ্চায়েতের কাজকর্মকে বাধা মুক্ত রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সময়মতো সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পঞ্চায়েতের সাংবিধানিক অধিকারের কোনো রূপ ছাঁটাই করা হয়নি, কেবল আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এখন থেকে গ্রাম প্রধানরা বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দেবেন, কিন্তু অর্থ প্রদান ও আর্থিক নথিপত্রে স্বাক্ষর করবেন পঞ্চায়েত সচিব, সহ-সচিব এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির জন্য পুরো পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কাজ থমকে থাকা উচিত নয়।
দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন যে, আগের ব্যবস্থায় বহু ক্ষেত্রে 'কাটমানি' সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের নথিপত্রে স্বাক্ষর আটকে রাখা হতো। তিনি দাবি করেন, পঞ্চায়েত প্রধানদের এই ধরনের ব্যাপক আর্থিক ক্ষমতা গোটা দেশে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই ছিল এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় হিংসার পেছনে এই অর্থনৈতিক স্বার্থ একটি প্রধান কারণ ছিল।
তিনি আরও বলেন, সরকার পঞ্চায়েত ভেঙে দেয়নি কিংবা তাদের ভূমিকা শেষ করে দেয়নি। রাস্তা নির্মাণ, দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ আগের মতোই চলবে, তবে আর্থিক প্রক্রিয়াকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি