
আগরতলা, ২৬ জুলাই (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান 'মন কি বাত'-এ ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী উপজাতীয় তারবাদ্য চোংপ্রেং এবং এর সংরক্ষণে সুরজ কুমার দেববর্মার অবদানের প্রশংসা করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখে ত্রিপুরার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উল্লেখ রাজ্যের মানুষের কাছে অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। একইসঙ্গে তিনি সমগ্র ত্রিপুরাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
রবিবার সম্প্রচারিত 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগের পাশাপাশি ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র চোংপ্রেং-এর প্রসঙ্গ বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরার এই উদ্যোগ ভারতের সমৃদ্ধ লোকসঙ্গীতের ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবন্ত করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চোংপ্রেং ত্রিপুরার বিভিন্ন উপজাতিয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি ঐতিহ্যবাহী তারবাদ্য, যা রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে চোংপ্রেং সংরক্ষণ ও জনপ্রিয় করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে চলা সুরজ কুমার দেববর্মা-র প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সুরজ কুমার দেববর্মার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই এই প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিতি ও মর্যাদা লাভ করছে।
এদিন রাজধানীর প্রতাপগড়ের ১৩ নম্বর বিজেপি মণ্ডলের অন্তর্গত ৫১ নম্বর বুথের সুকান্তপল্লী এলাকায় বুথ কমিটির উদ্যোগে 'মন কি বাত' শোনার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান শোনেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী 'মন কি বাত'-এ ত্রিপুরার নাম উল্লেখ করায় রাজ্যের মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি জানান, কিছুদিন আগে তিনি নিজে সুরজ কুমার দেববর্মার বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং চোংপ্রেং সংরক্ষণে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান। সেই উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রী তাঁর অনুষ্ঠানে উল্লেখ করবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং লোকশিল্পকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী যে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা রাজ্যের শিল্পী, সংস্কৃতিপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। এর ফলে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি আরও ব্যাপকভাবে দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি-র সদর জেলা সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য, মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী মৌসুমী দাস, ১৩ নম্বর মণ্ডলের সভানেত্রী স্বপ্না দাসসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ