
আগরতলা, ২৭ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরার বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের কাস্টমারি ল -এর অবিলম্বে সরকারি অনুমোদনের দাবিতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার কাছে ডেপুটেশন প্রদান করল ত্রিপুরা ট্রাইবেল কাস্টমারি ল কো-অর্ডিনেশন কমিটি। একই সঙ্গে ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্যের কাছেও একই দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, বিষয়টি আর বিলম্বিত করা হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবে তাঁরা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিটি জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি-নীতি, উত্তরাধিকার, বিবাহ, পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামো সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় অটুট রাখতে কাস্টমারি ল-এর সরকারি স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ টিটিএএডিসি গঠনের দীর্ঘ কয়েক দশক অতিক্রান্ত হলেও রাজ্যের ১৯টি জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি সম্প্রদায়ের কাস্টমারি ল-ই সরকারিভাবে অনুমোদিত হয়েছে। বাকি ১৮টি সম্প্রদায়ের কাস্টমারি ল এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
নেতৃত্বের দাবি, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে টিটিএএডিসি-র সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ১৪টি সম্প্রদায়ের কাস্টমারি ল সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে রাজ্য সরকার কয়েকটি কাস্টমারি ল-এ সংশোধনের পরামর্শ দিয়ে প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য টিটিএএডিসি প্রশাসনের কাছে ফেরত পাঠায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির কোনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় জনজাতি সমাজে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে সংগঠনের অভিযোগ।
সোমবার সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দিয়ে অবিলম্বে বাকি কাস্টমারি ল-গুলির সরকারি অনুমোদনের দাবি জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর শান্তি বিকাশ চাকমা এবং জয়েন্ট কনভেনার বীরেন্দ্র ত্রিপুরা-সহ অন্যান্য সদস্যরা।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শান্তি বিকাশ চাকমা ও বীরেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, সরকার এবং টিটিএএডিসি প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তবে আর অযথা বিলম্ব হলে রাজ্যের সর্বত্র জনজাতি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
একই দিনে টিটিএএডিসি-র মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্যের কাছেও একই দাবিতে পৃথক স্মারকলিপি জমা দেয় ত্রিপুরা ট্রাইবেল কাস্টমারি ল কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সংগঠনের বক্তব্য, কাস্টমারি ল-এর সরকারি স্বীকৃতি শুধু আইনি বিষয় নয়, এটি জনজাতি সম্প্রদায়গুলির সাংবিধানিক অধিকার, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ