৩০ জুলাই ‘বস্তার পাণ্ডুম-২০২৬’-এর বিজয়ীদের সম্মানিত করবেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু
জগদলপুর, ২৭ জুলাই (হি. স.): আগামী ৩০ জুলাই নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘বস্তার পাণ্ডুম-২০২৬’-এর বিজয়ী প্রতিযোগী, ঐতিহ্যবাহী জনজাতি নেতৃত্ব ব্যবস্থার প্রতিনিধি, পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ সম্মান প্রদান করবেন রাষ্ট্রপ
বস্তার পাণ্ডুম-২০২৬’ (ফাইল ফটো)


জগদলপুর, ২৭ জুলাই (হি. স.): আগামী ৩০ জুলাই নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘বস্তার পাণ্ডুম-২০২৬’-এর বিজয়ী প্রতিযোগী, ঐতিহ্যবাহী জনজাতি নেতৃত্ব ব্যবস্থার প্রতিনিধি, পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ সম্মান প্রদান করবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

ছত্তিশগড়ের সমৃদ্ধ জনজাতি সংস্কৃতি, লোক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেব সায়ের নেতৃত্বে ব বস্তার পাণ্ডুম-২০২৬-এর বিজয়ী প্রতিযোগী, প্রথাগত উপজাতীয় প্রতিনিধি, পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ২০৯ জনের একটি প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত পৌঁছানো বস্তারের এই গৌরবগাথা কেবল এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক শক্তি ও জনজাতি ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং ভারতের সমৃদ্ধ জনজাতি ঐতিহ্যকে জাতীয় স্তরে এক নতুন মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি মুর্মু বস্তার পাণ্ডুম-২০২৬-এর বিজয়ী প্রতিযোগী, পরগনা মাঝি, মাঝি, চালকি এবং পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্তদের সম্মানে একটি বিশেষ নৈশভোজেরও আয়োজন করেছেন। এই প্রতিনিধি দলটি রাষ্ট্রপতি ভবন পরিদর্শন করবে এবং নয়াদিল্লির প্রধান জাতীয় স্থানগুলোও ঘুরে দেখবে। এটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক মঞ্চে বস্তারের জনজাতিয় সংস্কৃতি, প্রথাগত নেতৃত্ব ব্যবস্থা এবং ছত্তিশগড়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক ঐতিহাসিক সম্মানের প্রতীক।

মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেব সায় বলেন, আমাদের সরকার জনজাতি সমাজের গৌরবময় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির পাশাপাশি একে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে নিরন্তর কাজ করছে। রাষ্ট্রপতি ভবনে বস্তারের শিল্পী ও প্রথাগত জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি পুরো রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয়। এই সম্মান বস্তারের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উপজাতীয় সমাজের প্রতি সমগ্র দেশের শ্রদ্ধার প্রতীক।

সংস্কৃতি মন্ত্রী রাজেশ আগরওয়াল বলেন, বস্তার পাণ্ডুম-২০২৬ প্রমাণ করেছে যে ছত্তিশগড়ের উপজাতীয় সংস্কৃতি ও লোক ঐতিহ্য কেবল জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও নিজস্ব বিশেষ পরিচিতি তৈরির ক্ষমতা রাখে। তিনি বলেন, এই উৎসব জনজাতির জ্ঞানচর্চা, লোকজীবন, প্রথাগত নেতৃত্ব ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি ভবনে এই গুণীজনদের সম্মান জ্ঞাপন সমগ্র ছত্তিশগড়ের সাংস্কৃতিক স্বাভিমানের সম্মান।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে প্রথমবার আয়োজিত 'বস্তার পাণ্ডুম' বিশ্বের বৃহত্তম উপজাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে 'গোল্ডেন বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস'-এ নাম তুলে ছত্তিশগড়কে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সেই সাফল্যের পর ২০২৬ সালে এই উৎসবের পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে যেখানে ৭টি বিভাগে প্রতিযোগিতা হতো, এ বছর তা বাড়িয়ে ১২টি বিভাগ করা হয়েছে।

বস্তার বিভাগের ৭টি জেলার ৩২টি ব্লক থেকে মোট ৫৪,৭৫০ জন প্রতিযোগী এতে অংশগ্রহণ করে তাঁদের লোকশিল্প, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা প্রদর্শন করেন। ১০ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত আয়োজিত এই উৎসবে ব্লক, জেলা ও বিভাগীয় স্তরে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জনজাতি নৃত্য, লোকগীতি, নাটক, বাদ্যযন্ত্র, পোশাক, অলঙ্কার, হস্তশিল্প, চিত্রশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পানীয়, লোকজ রন্ধনশিল্প, আঞ্চলিক সাহিত্য এবং বনৌষধি—এই ১২টি বিষয়ের মাধ্যমে বস্তারের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক বর্ণাঢ্য রূপ তুলে ধরা হয়।

জগদলপুরে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় স্তরের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি এই আয়োজনকে জাতীয় গুরুত্ব প্রদান করে। উৎসবে উপজাতীয় হস্তশিল্প, বনৌষধি, ঐতিহ্যবাহী অলঙ্কার এবং স্থানীয় খাবারের প্রদর্শনী বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। এর ফলে স্থানীয় শিল্পী, কারিগর, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও গ্রামীণ উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিক দিক থেকেও লাভবান হন। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক এবং মধ্যপ্রদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ এই বস্তার পণ্ডুমকে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে পরিণত করেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande