
আগরতলা, ২৭ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি)-র রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত উচ্চ আদালতের কর্মরত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করার দাবিতে সোমবার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর কাছে স্মারকলিপি পেশ করল সিপিআই(এম)-এর পরিষদীয় দল। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর নেতৃত্বে ৯ জন বিধায়কের প্রতিনিধি দল লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, রাজ্যের পুলিশ প্রধানের অস্বাভাবিক মৃত্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-র উপর তদন্তের দায়িত্ব ছেড়ে দিলে মানুষের আস্থা তৈরি হবে না। তাই উচ্চ আদালতের কর্মরত একজন বিচারপতির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসআইটি গঠন করে তদন্ত চালানোর দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য প্রশাসনে এমন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা মুখ্যমন্ত্রীর আশেপাশে থেকে কার্যত সুপার ডিজি ও সুপার মুখ্যসচিব-এর ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের প্রভাবের কারণে তদন্তকারী আধিকারিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
যদিও ওই সুপার ডিজি বা সুপার মুখ্যসচিব কারা, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জিতেন্দ্র চৌধুরী কোনও নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, রাজ্য প্রশাসনে এমন একাধিক আধিকারিক রয়েছেন, যাঁরা একাধিকবার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি (এক্সটেনশন) পেয়েছেন এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
বিরোধী দলনেতার দাবি, ডিজিপি-র অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। সেই কারণেই তাঁরা রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সিপিআই(এম)-এর প্রতিনিধি দলে উপস্থিত বিধায়করাও একই দাবি সমর্থন করে বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার তদন্ত নিয়ে কোনও ধরনের বিতর্ক বা সন্দেহের অবকাশ থাকা উচিত নয়। বিচারবিভাগের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হলে সত্য সামনে আসবে এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না।
এদিনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ডিজিপি-র রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হলো। এখন রাজ্যপাল এই স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেন এবং সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ