
কলকাতা, ২৮ জুলাই (হি.স.):
রাজ্যের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল মঙ্গলবার আয়োজিত 'মুখোমুখি' জনসংযোগ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টির জন্য নেশন ফার্স্ট বা দেশ আগে সর্বোচ্চ নীতি এবং দলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ ও দেশহিতকে মাথায় রেখে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ভারতে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের ভারত মাতাকে সম্মান করা উচিত। যেভাবে আমরা নিজেদের মাকে শ্রদ্ধা করি, ঠিক সেভাবেই ভারত মাতাকে সম্মান করা আমাদের কর্তব্য। যদি কারও ভারতকে সম্মান জানাতে সমস্যা থাকে, তবে তিনি তাঁর পছন্দের দেশে চলে যেতে পারেন।
বিরোধীদের নিশানা করে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, অন্যান্য দলে পতাকা জ্বালানো এবং রাজনৈতিক হিংসার সংস্কৃতি থাকতে পারে, কিন্তু বিজেপি এই ধরনের সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না। তিনি জানান, দলের কর্মী-সমর্থকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অন্য কোনও দলের পতাকা পোড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড থেকে তাঁরা দূরে থাকেন। সম্প্রতি বিজেপিতে কিছু নতুন মুখের যোগদান নিয়ে জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনই এই নিয়ে কোনও জল্পনা করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে কেউ দলে যোগ দিলে তা শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই হবে। তিনি যোগ করেন, বিজেপি একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ দল এবং এখানে ব্যক্তিগত মতামতের চেয়ে দলের সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ নেতৃত্ব দেশহিত বিবেচনা করে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা সম্মান করা সমস্ত কর্মীর দায়িত্ব।
সায়নী ঘোষের বিতর্কিত আচরণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিবলিঙ্গে কনডম পরানোর মতো ঘটনা হিন্দু সমাজের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির কর্মীরাও এতে ব্যথিত হন। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশহিত ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ হবে।
জাতীয় শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় জবাবদিহি দেখিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিজেপি সরকার জবাবদিহিতে বিশ্বাস করে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগ সহ একাধিক কেলেঙ্কারি সত্ত্বেও রাজ্য সরকার কখনও নৈতিক দায় স্বীকার করেনি।
'মুখোমুখি' কর্মসূচি নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন মিলছে এবং প্রচুর পরিমাণে অভিযোগ ও পরামর্শ জমা পড়ছে। আপাতত এই কর্মসূচি সপ্তাহে তিন দিন চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতিটি পুরনিগম ও নগর স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় (ইউএলবি) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্রিভ্যান্স সেল চালু থাকবে, যেখানে নাগরিকদের অভিযোগ শুনে তার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি