বাংলায় বড় প্রশাসনিক রদবদল, বদলি ৯৯ জন বিডিও
কলকাতা, ২৮ জুলাই (হি.স.): গ্রামীণ প্রশাসনকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করে ৯৯ জন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারকে (বিডিও) বদলি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মঙ্গলবার রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে
স্বাস্থ ভবনে শুভেন্দু অধিকারি


কলকাতা, ২৮ জুলাই (হি.স.): গ্রামীণ প্রশাসনকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করে ৯৯ জন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারকে (বিডিও) বদলি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মঙ্গলবার রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে রাজ্য প্রশাসনে লাগাতার বড় স্তরে পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর আগে শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পুলিশ স্তরে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছিল। এবার গ্রামীণ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত বিডিও স্তরে পরিবর্তন শুরু করল সরকার।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার একাধিক নির্বাচিত প্রধান ও উপপ্রধান নিয়মিত কার্যালয়ে আসছিলেন না। এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ব্যাপক হারে বিডিও বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নতুন নিয়োগে ২০১৮ থেকে ২০২৫ ব্যাচের তরুণ পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) আধিকারিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, তরুণ আধিকারিকদের নিয়োগের ফলে গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলির রূপায়ণে গতি আসবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও বেশি কার্যকর হবে।

এরই মধ্যে, গত সপ্তাহে বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (দ্বিতীয় সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আইনের উদ্দেশ্য হল পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

এই বিলের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর বেশ কয়েকটি ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে, পঞ্চায়েতের তিন স্তরের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিল অনুমোদন ও স্বাক্ষর করার আর্থিক ক্ষমতা কমানো হবে। এখন থেকে নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রধানরা কেবল উন্নয়নমূলক প্রস্তাবগুলিতে ছাড়পত্র দেবেন, আর বিলের চূড়ান্ত অনুমোদন ও পেমেন্ট করবেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাই।

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বিধানসভায় আলোচনার সময় জানান, এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা নয়, বরং গ্রামীণ উন্নয়নের কাজে দুর্নীতি ও কমিশনরাজ বন্ধ করা। তিনি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে গ্রামাঞ্চলে সরকারি পরিষেবা প্রদান আরও স্বচ্ছ ও বাধামুক্ত হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande