
শিলিগুড়ি, ২৮ জুলাই (হি.স.): উত্তরবঙ্গকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও নীতিগত রূপরেখা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার 'বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি' (বিসিসি)-র উদ্যোগে শিলিগুড়িতে আয়োজিত ‘দ্য ডন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল: শিলিগুড়ি চ্যাপ্টার’ সম্মেলনে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সামনে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ রাজ্যের আগামী কৌশল স্পষ্ট করেছেন।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলির পাশাপাশি এখন উত্তরবঙ্গে নিউ-টেক, হাই-টেক, ডিপ-টেক এবং লজিস্টিকসের মতো আধুনিক শিল্পকে উৎসাহিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি জানান, আগে উত্তরবঙ্গকে কেবল চা, কাঠ ও পর্যটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করা হতো, কিন্তু এখন সময় বদলেছে এবং একে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কম এবং বিনিয়োগের জন্য এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত অনুকূল। পরিকাঠামোর পাশাপাশি সরকার শিক্ষা ও আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, যাতে মানুষ এখানে শুধু ঘুরতেই নয়, থাকতে এবং ব্যবসা করতেও আসেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িকে কেন্দ্রে রেখে বড় মাপের পরিকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাগডোগরা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যার ফলে উত্তরবঙ্গ শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবেই থাকবে না, বরং সমগ্র বাংলার প্রধান প্রবেশদ্বার (গেটওয়ে) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
চা শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একের পর এক চা বাগান বন্ধ হওয়া এবং শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থা মাথায় রেখে সরকার সতর্ক রয়েছে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর এবং কারিগরি শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য উন্নত নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, রাজ্য সরকার পর্যটন ক্ষেত্রকে বৈশ্বিক স্তরে এক নতুন পরিচয় দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, কেন্দ্র সরকারের ‘গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ প্রকল্পের অধীনে দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি সুন্দরবনকেও বিকশিত করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে।
এছাড়া কলকাতার ঐতিহাসিক দুর্গাপূজাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। পর্যটন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, আইআইটি খড়গপুরের সহযোগিতায় পর্যটকদের আচরণের ডেটা তৈরি করা হবে, যাতে আরও ভালো কৌশল তৈরি করে তাঁদের আকৃষ্ট করা যায়।
খুব শীঘ্রই একটি সামগ্রিক পর্যটন অ্যাপ চালু করা হবে, যেখানে হোটেল, ট্যুর অপারেটর, ট্যাক্সি এবং বুকিং পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে—যাতে পর্যটকরা নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিষেবা পেতে পারেন। এই সম্মেলন এবং উভয় মন্ত্রীর বক্তব্যে উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী ও শিল্প মহলে নতুন আশা ও উদ্দীপনার আবহ তৈরি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি