
কলকাতা, ৩০ জুলাই (হি. স.): আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শিক্ষানবিস চিকিৎসকের গণধর্ষণ ও হত্যার তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) পরিবর্তন করা হয়েছে। সীমা পাহুজার পরিবর্তে এখন সন্দীপনী গর্গকে এই মামলার নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি শিয়ালদহ আদালতে হাজির হন। এর পাশাপাশি, সিবিআই এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে একটি নতুন বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে।
আদালতে তিন পৃষ্ঠার স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই জানিয়েছে যে, এই মামলা সংক্রান্ত প্রায় ১,০০০ পৃষ্ঠার নথি ও কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নথিপত্র বিশদে অধ্যয়ন করতে এবং নতুন তদন্তকারী দলকে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আদালতের কাছে আরও কিছু সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সিবিআই।
আদালত চত্বরে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্দীপনী গর্গ নিহতের মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাঁর হাত ধরে নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট তদন্তের আশ্বাস দেন এবং পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান।
আদালতের নির্দেশে গঠিত নতুন এসআইটি -র নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিবিআইয়ের যুগ্ম অধিকর্তা অনুরাগ কুমার। এই দলে আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মণীশ উপাধ্যায়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী অমর্ত্য দে আদালতে জানান যে, মৃতদেহ উদ্ধার থেকে শুরু করে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পূর্বতন তদন্ত দলকে। তিনি আবেদন জানান, পূর্বের দল এ পর্যন্ত কতটা কাজ করেছে তা যেন নতুন এসআইটি পুনর্বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
শুনানি চলাকালীন নিহতের মা, যিনি বর্তমানে পানিহাটির বিধায়ক, আদালতে বলেন যে তাঁর মেয়ের সঙ্গে শেষবার যাঁদের দেখা গিয়েছিল, তাঁদের ভূমিকাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। তবে তিনি জানান, বিচার পাওয়ার বিষয়ে তিনি নতুন রাজ্য সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। তাঁর মতে, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে এবং তিনি আশাবাদী যে এই মামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি