
কলকাতা, ৩০ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার কলকাতায় তাঁর সাপ্তাহিক 'জনতা দরবার'-এর আয়োজন করেন। এতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ নিজেদের অভিযোগ ও সমস্যা নিয়ে পৌঁছান। কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, জমি সংক্রান্ত বিবাদ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কিত নানা বিষয়ে মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
জনতা দরবারে সবচেয়ে আবেগঘন বিষয়টি সামনে আসে নদীয়ার কৃষ্ণনগরের এক মহিলার আবেদনে। ওই মহিলা অভিযোগ করেন যে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাঁর কলেজপড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং দেহটি অ্যাসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। তাঁর আরও অভিযোগ, পুলিশ শুরু থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আইনি হস্তক্ষেপের পর এফআইআর দায়ের হলেও তদন্তে এ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
মহিলা জানান, ঘটনার সময় শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর, এই মামলার নতুন করে তদন্তের দাবি জানান ওই মহিলা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অভিযোগ শুনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন।
জনতা দরবারে যাদবপুরের এক মহিলা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিধায়ক সর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের সমর্থকদের মাধ্যমে তাঁর ৩০ বছরের পুরনো শাড়ি ও পোশাকের দোকান দখলের অভিযোগ আনেন। মহিলা জানান, গত ১২ জুনের রাতে দোকান ভেঙে সেটি দখল করা হয়। যদিও বিধায়ক সর্বরী মুখোপাধ্যায় এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে জানান যে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং এটি মূলত ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত এক বিতর্ক। নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগও আনেন তিনি।
সুন্দরবন অঞ্চল থেকে আসা এক মহিলা তাঁর ১১ বছরের ছেলের হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চান। তাঁর বক্তব্য ছিল, বহু বছর ধরে সরকারি এসএসকেএম হাসপাতালে ঘোরার পরও বেড না পাওয়ার কারণে অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়নি।
এছাড়া জমি দখল, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না মেলা সহ একাধিক প্রশাসনিক অভিযোগ নিয়ে দূর-দূরান্তের বহু মানুষ এই জনতা দরবারে হাজির হয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং সমস্যার সমাধানের দাবি জানান।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী পদ সামলানোর পর গত ১৮ মে থেকে এই 'জনতা দরবার' শুরু করেছিলেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শোনা এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি