বন্যার জল নামছে, শিবসাগরের নেপালিখুটিতে পলির নীচে মিলল মহিলা সহ দুটি দেহ
শিবসাগর (অসম), ৩০ জুলাই (হি.স.) : বন্যার জল নামতে শুরু করার পর উজান অসমের শিবসাগর জেলার নেপালিখুটি গ্রামে ফিরে এসে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মুখোমুখি হলেন বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার সময় বন্যায় জমে থাকা পুরু পলির নীচ থেকে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া
নেপালিখুটিতে পলির নীচে দুই দেহ উদ্ধারের বর্ণনা দিচ্ছেন গ্রামের জনৈক বাসিন্দা


শিবসাগর (অসম), ৩০ জুলাই (হি.স.) : বন্যার জল নামতে শুরু করার পর উজান অসমের শিবসাগর জেলার নেপালিখুটি গ্রামে ফিরে এসে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মুখোমুখি হলেন বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার সময় বন্যায় জমে থাকা পুরু পলির নীচ থেকে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গ্রামবাসীরা বাড়িঘরের কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলাকালীন প্রথমে একটি এবং পরে আরও একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। বন্যার স্রোতে ভেসে আসা পলি ও কাদার স্তরের নীচে দেহ দুটি সম্পূর্ণ চাপা পড়ে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী একটি মৃতদেহ নদীর ধারে উদ্ধার হয়। সেখানে পলির উপর কেবল দুই পা দৃশ্যমান ছিল, শরীরের বাকি অংশ সম্পূর্ণ কাদা ও পলির নীচে চাপা ছিল। অপর মৃতদেহটি উদ্ধার হয় সনু কর্মকারের বাড়ির কাছাকাছি। সেখানে পলির পুরু স্তরের নীচে দেহটি চাপা পড়ে ছিল।

জনৈক গ্রামবাসী জানান, ‘আজ আমরা সবাই গ্রামে ফিরেছি। বাড়িঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে দুটি মৃতদেহ দেখতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের গাঁওবুড়া (গ্ৰামপ্ৰধান) এবং পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।’

অন্য এক বাসিন্দার দাবি, মৃতদের একজন রাজেন পানিকার স্ত্রী হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও মৃতদেহগুলির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। নির্ধারিত নিয়ম মেনে মৃতদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় আপার আসামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলির অন্যতম ছিল শিবসাগর জেলার নেপালিখুটি। বন্যার জলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য বাড়িঘর ও পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষকে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

বর্তমানে বন্যার জল নেমে গেলেও গ্রামে ফিরে আসা বাসিন্দারা এখনও ধ্বংসস্তূপ, পুরু কাদার স্তর এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া গৃহস্থালির সামগ্রীর মধ্যে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের আশঙ্কা, জমে থাকা পলির নীচে আরও মৃতদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande