ডিমাপুর-কোহিমা নতুন রেললাইন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এনএফ রেল (নির্মাণ)-এর জিএম বনসালের
গুয়াহাটি, ৩০ জুলাই (হি.স.) : কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিমাপুর (ধনশিরি)-কোহিমা (জুবজা) নতুন রেললাইন প্রকল্পের সামগ্রিক পরিদর্শন করেছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (নির্মাণ)-এর জেনারেল ম্যানেজার আশিস বনসাল সম্প্রতি। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (নির্মাণ)-এ
ডিমাপুর-কোহিমা নতুন রেললাইন প্রকল্পের পর্যালোচনা এনএফআর (নির্মাণ)-এর জেনারেল ম্যানেজারের


গুয়াহাটি, ৩০ জুলাই (হি.স.) : কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিমাপুর (ধনশিরি)-কোহিমা (জুবজা) নতুন রেললাইন প্রকল্পের সামগ্রিক পরিদর্শন করেছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (নির্মাণ)-এর জেনারেল ম্যানেজার আশিস বনসাল সম্প্রতি। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (নির্মাণ)-এর বরিষ্ঠ আধিকারিকদের সাথে বনসাল প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্টের পাশাপাশি সুড়ঙ্গ, মেজর ব্রিজ, স্টেশন ইয়ার্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণস্থল সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত কাজ পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে জেনারেল ম্যানেজার চলমান কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, ফিল্ড আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে মতবিনিময় এবং গুণমান, সুরক্ষা ও ইঞ্জিনিয়ারিং উৎকৃষ্টতার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রকল্পটি যথাসময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা আজ বৃহস্পতিবার এ খবর দিয়ে জানান, ডিমাপুর (ধনশিরি)-কোহিমা (জুবজা) নতুন রেললাইন প্রকল্পটি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের বাস্তবায়নাধীন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত পদক্ষেপ। প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পর এটি নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমাকে প্রথমবারের জন্য জাতীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করবে, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে রেল সংযোগ ব্যবস্থা মজবুত করার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

কপিঞ্জল কিশোর জানান, ৭৮.৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পটি অসমের কার্বি আংলং জেলা এবং নাগাল্যান্ডের চুমুকে ডিমা ও কোহিমা জেলার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এখানে আটটি স্টেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলি যথাক্ৰমে ধনশিরি, ধনশিরিপার, শোখুভি, মলভোম, ফেরিমা, পিফেমা, মেঙ্গুজুমা এবং জুবজা। এর মধ্যে ধনশিরি, শোখুভি ও মলভম স্টেশনের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পটিতে ইঞ্জিনিয়ারিঙের বেশ কিছু জটিল কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন মোট ৩১,১৬৯ মিটার দৈর্ঘ্যের ২০টি সুড়ঙ্গ, ২৭টি মেজর ব্রিজ এবং ১৪৯টি মাইনর ব্রিজ, যা নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি ভূখণ্ডে রেলপথ নির্মাণের জটিলতাকে তুলে ধরে।

প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে চালু করা হয়েছে, ১৬.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ধনশিরি-শোখুভি সেকশনটি অক্টোবর ২০২১-এ এবং ১৪.৬৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শোখুভি-মোলভম সেকশন মার্চ ২০২৫-এ চালু করা হয়। বর্তমানে শোখুভি থেকে গুয়াহাটি ও নাহরলগুন পর্যন্ত নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু রয়েছে।

অন্যদিকে, নাগাল্যান্ডের তৃতীয় প্রধান রেলস্টেশন মোলভম চালু হওয়ার ফলে রাজ্যে রেল সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এনএফ রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা আরও জানান, দুর্গম ভূখণ্ড ও জটিল ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও অবশিষ্ট সেকশনগুলির নির্মাণকাজ সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টা এবং আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং সমাধানের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পটির সুরক্ষিত ও দক্ষ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক নির্মাণ কৌশল ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের সহায়তায় একইসাথে একাধিক টানেল ফেস-এ কাজ চলছে।

পরিদর্শনকালে আশিস বনসাল ইঞ্জিনিয়ার ও নির্মাণকারী টিমের নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি কাজের গতি বজায় রাখা, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং সুরক্ষা ও গুণমানের সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রেখে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে সম্পূর্ণ ডিমাপুর (ধনশিরি)-কোহিমা (জুবজা) নতুন রেললাইন প্রকল্পটি ২০২৯-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সম্পূর্ণ হওয়ার পর এই প্রকল্পটি সংযোগ ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও বাজারের সুবিধাপ্রাপ্তি সহজতর করবে এবং নাগাল্যান্ড ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে, বলেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।

হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস




 

 rajesh pande