
দুর্গাপুর, ৬ জুলাই (হি.
স.): পিলারে ধরেছে চওড়া ফাটল। কোথাও আবার উপর থেকে খসে খসে পড়ছে কংক্রিটের বড় বড় চাঙড়। যে কোনও মুহূর্তে সেটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে এলাকাবাসীর। এমনই এক চরম বিপজ্জনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীনগরপল্লী এলাকার একটি জলের ট্যাঙ্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে তৎকালীন বামফ্রন্ট বোর্ডের আমলে শ্রীনগরপল্লীতে এই জলের ট্যাঙ্কটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সেই সময় থেকেই এই নির্মাণ নিয়ে আপত্তি ছিল এলাকাবাসীর। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘন জনবসতির এত কাছে এটি না করে কোনও খোলা জায়গায় জলাধারটি নির্মাণ করার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের সেই আপত্তি তখন গুরুত্ব পায়নি। পরে রাজ্যে সরকার বদলালেও পরিস্থিতির কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে এর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলেও, তা অত্যন্ত দায়সারাভাবে করা হয়েছিল। এমনকি ঠিকমতো প্লাস্টার পর্যন্ত করা হয়নি, কংক্রিটের কাঠামোর উপরেই স্রেফ রং করে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে জলের এই বিশাল ট্যাঙ্কটি অত্যন্ত বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। উপর থেকে অনবরত চাঙড় ভেঙে পড়ছে, পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কাঠামোটি সামান্য হেলেও পড়েছে বলে দাবি করছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা ধীরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “আমাদের বাড়ির একেবারে লাগোয়া এই জলাধারটি। এটি একদিকে হেলে রয়েছে। ট্যাঙ্কটি ওভারলোড হলে জল উপচে আমাদের ছাদে পড়ে। যে কোনও সময় এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, অনবরত চাঙড় খসে পড়ছে। পুরসভায় একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” অন্য বাসিন্দারাও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে এই জলাধার আর এভাবে রাখা উচিত নয়। অবিলম্বে এটি ভেঙে সরিয়ে ফেলা বা বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় জোর রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। শাসকদলকে আক্রমণ করে বিজেপি নেতা প্রসেনজিৎ কর অভিযোগ তোলেন, “স্থানীয় মানুষ প্রথম থেকেই এখানে ট্যাঙ্ক তৈরির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন শাসকদল সেই কথা কানে তোলেনি। আসলে তৃণমূলের নেতারা কাটমানি খেয়ে এই নিম্নমানের কাজ করেছেন।”
শ্রীনগরপল্লীর বাসিন্দাদের ক্ষোভ, বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিন এই জলাধারের তলা দিয়ে চলাচল করা এবং আশপাশের বাড়িগুলির মানুষের কাছে এটি এখন নিত্যদিনের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর, এবার তাঁদের এই দীর্ঘদিনের জলজ্যান্ত সমস্যার দ্রুত সুরাহা হবে বলেই আশা বুক বাঁধছেন স্থানীয়রা।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা