
গুয়াহাটি, ৯ জুলাই (হি.স.) : অসম বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশেনর আজ (বৃহস্পতিবার) চতুর্থদিন একাধিক এমএসএমই আইন সংস্কার, ব্যবসায়িক বিধি সহজীকরণ সহ একাধিক বিল পেশ করেছে রাজ্য সরকার। বিলগুলির লক্ষ্য ব্যবসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ সহজ করা, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার (কমপ্লায়েন্স) বাধ্যবাধকতা কমানো।
শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ মন্ত্রী বিমল বরা 'দ্য আসাম মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস (ফ্যাসিলিটেশন অব এস্টাবলিশমেন্ট অ্যান্ড অপারেশন) বিল, ২০২৬' বিধানসভায় উত্থাপন করেছেন। এই বিলের মাধ্যমে ২০২০ সালের বিদ্যমান এমএসএমই আইনটি প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে মন্ত্ৰী বরা বলেন, অসমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি জানান, ২০২০ সালের আইনটি উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন নিশ্চিত করলেও, কেন্দ্রের ‘বিজনেস রিফর্ম অ্যাকশন প্ল্যান’ (বিআরএপি), সেল্ফ-সার্টিফিকেশন, ডিজিটাল অনুমোদন এবং সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থার মতো নতুন সংস্কারের কারণে আইনটির সামগ্রিক সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। নতুন বিলের মাধ্যমে বিদ্যমান আইন বাতিল করে এমএসএমইগুলির জন্য আরও ব্যবসাবান্ধব আইনি কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শ্রমকল্যাণ মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি 'দ্য আসাম শপস অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬' পেশ করে এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছেন। মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর কমপ্লায়েন্সের বোঝা কমানো এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আধুনিকীকরণ করা। এই বিলে ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা, সেল্ফ-সার্টিফিকেশন, অনুমিত (ডিমড্) নিবন্ধন এবং ২৪ ঘণ্টা ব্যবসা পরিচালনার বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মচারীদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশ, কর্মস্থলের নিরাপত্তা, অতিরিক্ত সময়ের কাজের পারিশ্রমিক এবং সাপ্তাহিক ছুটির মতো সুরক্ষামূলক বিধানগুলি বহাল রাখা হবে।
এছাড়া সরকার 'দ্য আসাম ইজ অব ডুয়িং বিজনেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬'-ও আজ বিধানসভায় পেশ করেছে। এই বিলে ঘোষিত শিল্পাঞ্চল সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলির সমন্বয় ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি সিঙ্গল উইন্ডো টাস্ক ফোর্স গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।
মন্ত্রী বিমল বরা জানান, এই আইনে শিল্পাঞ্চল সংক্রান্ত প্রস্তাবের জন্য রাজ্যের কেন্দ্রীভূত ওয়েব পোর্টালে একটি পৃথক মডিউল চালুর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, টাস্ক ফোর্সকে তাদের কাজের সহায়তায় প্রয়োজনে বাইরের সংস্থাকে যুক্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, 'অসম জন বিশ্বাস (বিধানের সংশোধন) বিল, ২০২৬'-এর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, নগর ও গ্রাম পরিকল্পনা, অগ্নিনির্বাপন ও জরুরি পরিষেবা, ভূমির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন এবং সিনেমা নিয়ন্ত্রণ সহ মোট ছয়টি বিদ্যমান রাজ্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এই সংশোধনগুলির উদ্দেশ্য অপ্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স কমানো, অনুমোদন ও ছাড়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।
এদিকে পর্যটন মন্ত্রী অজন্তা নেওগ 'দ্য আসাম ট্যুরিজম (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬' পেশ করেছেন। এই বিলে বর্তমান পর্যটন আইনে সংশোধনের পাশাপাশি ঔপনিবেশিক আমলের সারাই আইন, ১৮৬৭ বাতিল করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস