


জোয়াই (মেঘালয়), ৯ জুলাই (হি.স.) : আন্তঃরাজ্য সীমান্ত বিরোধ সমাধানের জন্য কাজ করার পাশাপাশি অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে, দুই প্রতিবেশী দুই রাজ্যের মধ্যে কোনো উত্তেজনা বা বিরোধ নেই, বলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
আজ বৃহস্পতিবার মেঘালয়ের জয়ন্তীয়াপাহাড় জেলা সদর জোয়াইয়ে বার্ষিক বেহদিয়েনখলাম উৎসবে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, সীমান্ত সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য দুই রাজ্য সরকার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, যে কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য যোগাযোগের পথ খোলা রাখা হয়েছে।
ড. শর্মা বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর (মেঘালয়ের) সঙ্গে নিয়মিত দেখা করি। তাই আলোচনার পথ সবসময় খোলা রয়েছে। আমরা একে অপরের সঙ্গে দেখা করি, কোনও বিরোধ নেই। যখনই কোনও সমস্যা দেখা দেয়, বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করি।’
সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় বারবার উত্তেজনা তৈরি হয় বলে বিভিন্ন খবরের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমি তা মনে করি না, সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে...।’
বেহদিয়েনখলাম উৎসবে যোগ দিতে হিমন্তবিশ্ব শর্মা মেঘালয়ে এসেছিলেন। এটি প্নার সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতি বছর জোয়াইয়ে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে ভালো ফসল, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয়। এই উৎসবে রোগ ও অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে।
হিমন্তবিশ্ব শর্মার এই মন্তব্যের আগে মেঘালয় সরকার অসমের সঙ্গে সীমান্ত আলোচনার দ্বিতীয় পর্যায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের আঞ্চলিক কমিটিগুলিকে পুনর্গঠন করেছে। এই কমিটিগুলিকে স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং দুই রাজ্যের মধ্যে বাকি ছয়টি বিতর্কিত এলাকা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অসম ও মেঘালয় ২০২২ সালের মার্চ মাসে প্রথম পর্যায়ের আলোচনার সময় একটি ঐতিহাসিক সীমান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে চিহ্নিত ১২টি বিবাদিত এলাকার মধ্যে ছয়টির সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় অসম-মেঘালয়ের মধ্যে বাকি থাকা লাংপি, বড়দুয়ার, নংওয়াহ-মাওতামুর, দেশদেমোরিয়া, ব্লক-১ ও ব্লক-২ এবং পিয়ার-খান্ডুলি এলাকার বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে।
অসম ও মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে হিমন্তবিশ্ব শর্মা এবং কনরাড কে সাংমা উভয়েই ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন, অবশিষ্ট সীমান্ত সমস্যাগুলি আলোচনা, পরামর্শ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
কনরাড সাংমা জানিয়েছেন, পুনর্গঠিত আঞ্চলিক কমিটিগুলি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা করবে, বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং সীমান্ত আলোচনার দ্বিতীয় পর্যায় এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দেবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস