
গুয়াহাটি, ৯ জুলাই (হি.স.) : ‘জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি’ (জাইকা)-র সহায়তায় ২০১২ সালে শুরু হওয়া পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পগুলি চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, জানিয়েছেন মন্ত্রী কৌশিক রায়।
আজ বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিন বিধায়ক রেকিবুদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের উত্তরে আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী কৌশিক রায় জানান, সাউথ-সেন্ট্রাল গুয়াহাটি জল সরবরাহ প্রকল্পের ৯৬.৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, আর নর্থ গুয়াহাটি জল সরবরাহ প্রকল্পের ৯৫.৭৫ শতাংশ কাজও শেষ। ২০১২ সালের মার্চ মাসে কাজ শুরু হওয়ার পর যথাক্রমে ৩৬ মাস এবং ২৮ মাসের মধ্যে এই দুই প্রকল্প শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।
মন্ত্রী জানান, জাইকা-র অর্থায়নে পরিচালিত এই দুই প্রকল্পে মোট ১,৪৫০.৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে জাইকা ঋণ থেকে ১,৪২৫.৯৩ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকারের স্টেট-ওনড প্রায়োরিটি ডেভেলপমেন্ট (এসওপিডি) তহবিল থেকে ২৪.৯৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। জাইকা ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে এবং বাকি কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সাউথ-সেন্ট্রাল প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে ৮৩,৫৬৯টি পরিবারে পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নর্থ গুয়াহাটি জল সরবরাহ প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু হলে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার উপকৃত হবে।
বিধানসভায় আরও জানানো হয়েছে, গুয়াহাটি জল বোর্ডের অধীনে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া সাউথ-ওয়েস্ট গুয়াহাটি জল সরবরাহ প্রকল্পের ৭২ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ৩২৪.৩৫ কোটি টাকা।
এদিকে, সাউথ-ইস্ট গুয়াহাটি জল সরবরাহ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের ১৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর সহায়তায় পরিচালিত প্রথম পর্যায়টি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়। পরবর্তী কাজ ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি)-এর আর্থিক সহায়তায় পুনরায় শুরু হয়েছে। তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের মে মাসের মধ্যে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ১৯২.৪৬ কোটি টাকা।
মন্ত্ৰী কৌশিক রায় আরও জানান, ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া জু রোড জল সরবরাহ প্রকল্পটি ২০১৫ সালে গুয়াহাটি জল বোর্ডের অধীনে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৫.৩৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৯০০টি পরিবারে পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে।
জল বোর্ডের প্রকল্পগুলির পাশাপাশি, গুয়াহাটি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (জিএমসি) পানবাজার, সাতপুখুরি এবং কামাখ্যায় জল সরবরাহ প্রকল্প পরিচালনা করছে। গত অর্থবর্ষে এই প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৩.৫২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ২১ হাজার গ্রাহক উপকৃত হয়েছেন।
ভবিষ্যতের চাহিদার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সমীক্ষা অনুযায়ী গুয়াহাটিতে প্রায় ২.২১ লক্ষ পরিবারের জন্য নতুন পানীয় জলের সংযোগের প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে সাউথ-সেন্ট্রাল গুয়াহাটিতে ১.১০ লক্ষ, নর্থ গুয়াহাটিতে ১৫ হাজার, সাউথ-ওয়েস্ট গুয়াহাটিতে ৩০ হাজার এবং সাউথ-ইস্ট গুয়াহাটিতে ৬৬ হাজার পরিবারের জন্য সংযোগের প্রয়োজন।
সরকার বিধানসভায় আরও জানিয়েছে, জাইকা-র সহায়তায় পরিচালিত পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পগুলির পাশাপাশি জাইকা-সমর্থিত গুয়াহাটি নিকাশি প্রকল্পের কাজও চলছে। এছাড়া, ২০১৬ সাল থেকে গুয়াহাটি এবং রাজ্যের অন্যান্য শহরাঞ্চলে বাস্তবায়িত স্মার্ট সিটি মিশনের বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য পৃথক সংযোজনীতে বিধানসভার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস