
বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), ১০ আগস্ট (হি.স.) : গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামের মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভিবি-জি-রাম-জি আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই আইনের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। সোমবার বিলোনিয়া পুরাতন টাউন হলে ভিবি-জি-রাম-জি নিয়ে আয়োজিত একদিনের জেলা ভিত্তিক পঞ্চায়েত সম্মেলনের উদ্বোধন করে এই কথা বলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মণ।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, নতুন এই আইন গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সম্পদ তৈরিতেও এই আইনের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর দাবি, এমজি এনরেগার তুলনায় এই আইনে জনগণের উন্নয়নের সুযোগ আরও বেশি রয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের প্রকৃত চাহিদাকে সামনে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। শুধুমাত্র বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সম্পদ সৃষ্টি করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যে সম্পদ তৈরি হচ্ছে, তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়নমূলক প্রকল্প যাতে দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের কাজে আসে, সেদিকেও জনপ্রতিনিধিদের নজর দিতে হবে।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী আরও বলেন, ভিবি-জি-রাম-জি'র মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটানো সম্ভব। এর সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।
তিনি জনপ্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, গ্রামীণ এলাকার জনগণ, সরকারি কর্মচারী এবং জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধভাবে ভিবি-জি-রাম-জি আইন বাস্তবায়নে সক্রিয় হলে অল্প সময়ের মধ্যেই এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আইন গ্রামীণ জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলে দেবে এবং তাঁদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে সহায়ক হবে।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (পিপি) শান্তিরঞ্জন চাকমা। বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী দীপায়ন চৌধুরী এবং সেন্ট্রাল ওয়ার্কস ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সুমিত মজুমদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তপন দেবনাথ। দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ব্লকের বিডিও এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে ভিবি-জি-রাম-জি আইনের বিভিন্ন দিক, এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং গ্রামীণ উন্নয়নে এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ