
ঝাড়গ্রাম, ২ আগস্ট (হি. স.): সবজির কালোবাজারি রুখতে এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে আনাজ বিক্রি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে রবিবার সকালে ঝাড়গ্রাম শহরের স্টেশন মোড় সবজি বাজার ও জুবিলি মার্কেট পরিদর্শন করলেন ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। পরিদর্শনের পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে ঝাড়গ্রামে সরকারি উদ্যোগে দুটি হিমঘর নির্মাণের আশ্বাসও দেন তিনি।
বাজার পরিদর্শনে বিধায়কের সঙ্গে ছিলেন ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামীম বিশ্বাস, ঝাড়গ্রাম থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ, ঝাড়গ্রাম পুরসভার আধিকারিক এবং প্রশাসনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন দোকানে গিয়ে সবজির দাম যাচাই করার পাশাপাশি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বর্তমান বাজারদর সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি। কোথাও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে কি না, তাও সরেজমিনে পরীক্ষা করা হয়। বাজারে আসা ক্রেতাদের সঙ্গেও কথা বলে তাঁদের মতামত ও অভিযোগ শোনেন বিধায়ক। পরিদর্শনের ফাঁকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চায়ের আড্ডাতেও অংশ নেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, বাজার ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ বিক্রেতাই সরকারি নির্ধারিত মূল্যেই সবজি বিক্রি করছেন। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যায্য দামে আনাজ কিনতে পারেন।
কৃষকদের সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ঝাড়গ্রামে সরকারি হিমঘর না থাকায় বহু চাষিকে উৎপাদিত ফসল কম দামে বিক্রি করতে হয়। সেই সমস্যা দূর করতে বিধানসভায় দুটি সরকারি হিমঘর নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। হিমঘর তৈরি হলে কৃষকরা ফসল সংরক্ষণের সুযোগ পাবেন এবং ন্যায্য দাম পাওয়াও সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, সবজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। লালগড় থানার আইসি সঞ্জীব ঘোষের নেতৃত্বে কৃষি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে লালগড় বাজারে এবং গোপীবল্লভপুর থানার আইসি অজয় কুমার সিং ও যুগ্ম বিডিও সুশান্ত কুণ্ডুর নেতৃত্বে গোপীবল্লভপুর বাজারে মূল্য যাচাই করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্ষাকালে সবজির সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বেড়েছে ঠিকই, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি নির্ধারিত মূল্যের মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে আনাজ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো