
আগরতলা, ২ আগস্ট (হি.স.) : ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নেশামুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে রবিবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ‘নেশা মুক্ত সংকল্প অভিযান’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগরতলায় সখীচরণ স্কুলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, যুবসমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা নেশামুক্ত ভারত এবং নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার শপথ গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই জাতীয় কর্মসূচি আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এদিন প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নেশার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আগরতলায় সখীচরণ স্কুলে অনুষ্ঠিত হয় নেশা মুক্ত ভারত সংকল্প অভিযান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, রাজ্য ক্রীড়া পর্ষদের সচিব সুকান্ত ঘোষ, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্বজিৎ শীল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সুস্থ, সচেতন ও নেশামুক্ত যুবসমাজ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একইভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্যেও নতুন ত্রিপুরা গড়ার উদ্যোগ চলছে। কিন্তু নেশার ভয়াবহ বিস্তার সেই অগ্রগতির পথে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, নেশার গ্রাসে বহু তরুণ-তরুণীর জীবন অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী নেশা মুক্ত সংকল্প অভিযানের ডাক দিয়েছেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এদিন উপস্থিত সকলে শপথ নিয়েছেন, প্রতিটি পরিবার ও প্রতিটি পাড়াকে নেশামুক্ত করার জন্য সচেতনতা গড়ে তুলবেন। সমাজ নেশামুক্ত হলে জেলা, রাজ্য এবং শেষ পর্যন্ত গোটা দেশই নেশামুক্ত হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি এই সামাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
রাজ্য ক্রীড়া পর্ষদের সচিব সুকান্ত ঘোষ বলেন, যুবসমাজকে নেশার পথ থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সমাজগঠনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। সুস্থ জীবনযাপন এবং ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলেই নেশামুক্ত ভারত ও নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে শপথ গ্রহণ করেন। বক্তাদের মতে, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। রবিবারের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই সামাজিক অঙ্গীকারই আরও একবার জোরালোভাবে উচ্চারিত হলো।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ