
দুর্গাপুর, ২ আগস্ট (হি. স.): শহরজুড়ে বেআইনি ও নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগের জেরে কড়া অবস্থান নিল দুর্গাপুর নগর নিগম। অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান না মেনেই বহুতল নির্মাণের অভিযোগের তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিলতেই সংশ্লিষ্ট আবাসনের মালিককে ১৫ দিনের মধ্যে বেআইনি অংশ নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর না হলে নগর নিগম নিজেই আইন মেনে ওই অংশ ভেঙে দেবে এবং সেই খরচও সংশ্লিষ্ট মালিকের কাছ থেকেই আদায় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার, বেনাচিতি, বিধাননগর, মামরা বাজার ও বামুনাড়া-সহ একাধিক এলাকায় নতুন নির্মিত আবাসনে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ জমা পড়ছিল নগর নিগমে। অভিযোগ ছিল, অনেক ক্ষেত্রে পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট জায়গা দখল করে বাণিজ্যিক দোকান তৈরি করা হয়েছে, আবার কোথাও দুই ভবনের মধ্যবর্তী বাধ্যতামূলক ফাঁকা জায়গা না রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে দুর্গাপুর নগর নিগমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাচিতির এমকে ব্লক এলাকায় একটি বাড়িতে অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। গোপালপুরের বাসিন্দা শান্তনু মিশ্র, নিত্যগোপাল রায় ও মিঠু রায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৫ জুন নগর নিগমের বিল্ডিং ইন্সপেক্টর ও সার্ভেয়ার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের রিপোর্ট জমা পড়ার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ২৪ জুলাই অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
বিল্ডিং ইন্সপেক্টর ও সার্ভেয়ারের যৌথ পরিদর্শন রিপোর্ট এবং অনুমোদিত নকশা খতিয়ে দেখে নগর নিগমের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেখতে পান, বাস্তবে নির্মিত ভবনের সঙ্গে অনুমোদিত প্ল্যানের উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই নগর নিগম বিজ্ঞপ্তি জারি করে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে। বিজ্ঞপ্তিতে বেআইনি অংশ ১৫ দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর তার রিপোর্টও নগর নিগমে জমা দিতে বলা হয়েছে।
রবিবার পুর প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ ধরনের বেআইনি নির্মাণের ফলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই সংকীর্ণ রাস্তায় দমকল বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ঘিঞ্জি বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
এ প্রসঙ্গে এদিন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা অবৈধ নির্মাণ করেছেন, তাঁদের সকলের কাছেই নোটিশ যাবে। তৃণমূল আমলে অনেক বিল্ডিং প্ল্যানের ফাইল দুর্গাপুর নগর নিগম ও আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের মাধ্যমে নবান্ন থেকে অনুমোদিত হয়েছিল। আইন ভেঙে কোনও নির্মাণই আর বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করবে এবং অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা