মান্ডী ফাঁকা, ফঁড়েরা লুটছে মুনাফা, দুর্গাপুরে অগ্নিমূল্য সব্জি বাজার নিয়ন্ত্রণে রবিবাসরীয় অভিযানে টাস্ক ফোর্স
দুর্গাপুর, ২ আগস্ট (হি. স.): অগ্নিমূল্য সব্জি বাজার। কাঁচা লঙ্কা থেকে টমেটো, আদা থেকে ঝিঙে আকাশছোঁয়া দামে হাতে ছ্যাঁকা লাগছে আম জনতার। ক্রমবর্ধমান নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। অগ্নিমূল্যের বাজারে পকেটে টান পড়ছে মধ্যবিত্তের, মাথায় হাত চাষীদের। ফঁড়েরা
মান্ডী ফাঁকা, ফঁড়েরা লুটছে মুনাফা, দুর্গাপুরে অগ্নিমূল্য সব্জি বাজার নিয়ন্ত্রণে রবিবাসরীয় অভিযানে টাস্ক ফোর্স


দুর্গাপুর, ২ আগস্ট (হি. স.): অগ্নিমূল্য সব্জি বাজার। কাঁচা লঙ্কা থেকে টমেটো, আদা থেকে ঝিঙে আকাশছোঁয়া দামে হাতে ছ্যাঁকা লাগছে আম জনতার। ক্রমবর্ধমান নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। অগ্নিমূল্যের বাজারে পকেটে টান পড়ছে মধ্যবিত্তের, মাথায় হাত চাষীদের। ফঁড়েরাজে সব্জি চাষ করে চোখে সরষেফুল দেখছে চাষীরা। লোকসানে জর্জরিত। দাম নিয়ন্ত্রণে রবিবাসরীয় অভিযানে নামল টাস্কফোর্স। রবিবারের সাত সকালে মহকুমা শাসক , এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ দল একযোগে হানা দেয় দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক প্রধান বাজারে। মূলত কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ কালোবাজারি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। আর তাতেই সব্জি বাজার করতে গিয়ে হাতে ছ্যাঁকা লাগছে আম জনতার। অগ্নিমূল্যবাজারে নাভিশ্বাস দশা মধ্যবিত্তের। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর, পানাগড়, বুদবুদ, অন্ডাল বাজারে আকাশছোঁয়া শাক-সব্জি। ঝিঙে কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা, করলা কেজি প্রতি ৬০-৭০ টাকা, টমেটো কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা, পটল কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা, কুমড়ো-কেজি প্রতি-২৫--৩০ টাকা, লাও ২৫- ৩০ টাকা পিস। শসা কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা। তার ওপর পাল্লা দিয়ে ঝাঁজ বাড়ছে কাঁচালঙ্কা, রসুন, পেঁয়াজ ও আদা। বাজারের দাম আগুন হলেও চাষীরা লোকসানে জর্জরিত। দাম পাচ্ছে না বলে অভিযোগ। মুনাফার আশায় ঝিঙে, পটল, করলা, শসা চাষ করেছিল সোনামুখির মানাচরের উত্তর বেশিয়া, নবাসন, লালবাবা মানা, কসবা মানা এলাকার চাষীরা। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু, উৎপাদিত সব্জি বিক্রি করতে তাদের ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে পানাগড়, বুদবুদ অথবা ৪০ কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুরে যেতে হয়। সেটা চাষীদের কাছে ব্যায়বহুল। তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয় আড়তদার কিম্বা দালালদের দিতে হয়। আর তাতেই মুনাফা দূর অস্ত চাষের খরচও উঠছে না চাষীদের।গত এক সপ্তাহ ধরে আড়ত বা ফঁড়েদের কাছে চাষীদের ফসলের দাম তলানিতে। লোকসানে জর্জিরিত চাষীরা জানান, এবছর ঢেঁড়স, পটল, ঝিঙে, করলার ভালো ফলন হয়েছে। লাভের আশা দেখেছিলাম। বিঘা প্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিঘা প্রতি ২-৩ দিন অন্তর ৫০-৬০ কেজি ঝিঙে উঠছে। বিঘা প্রতি করলা উঠছে ৪০-৪৫ কেজি। একইরকমভাবে পটল উঠছে ৪৫-৫০ কেজি। ওই ফসল যোগাযোগের অভাবে শহর বিক্রি করতে যাওয়া কঠিন। তাই স্থানীয় আড়তে দিতে হয়। কিন্তু সেখানে যে দাম, তাতে চোখে সরষে ফুল দেখছি। ১০ টাকা কেজি ঝিঙে। করলা ১২-১৫ টাকা কেজি। পটল ১২-১৫ টাকা কেজি। কুমড়ো ৮-১০ টাকা কেজি। শসা ১৫-২০ টাকা কেজি। চাষীরা আরও জানান, এরকম দামে মুনাফা দূর অস্ত, উল্টে লোকসানের বহর বাড়ছে। পারিশ্রমিক উঠছে না। আর প্রশ্ন এখানে, বাজার যখন অগ্নিমূল্য, ফঁড়েদের তখন স্বৈরাচারী রাজ। বাজারে কৃতিম সঙ্কট তৈরী করে মাঝপথে নিজেদের মত দামে বিক্রি করে মুনাফা লুটছে ফঁড়েরা। এক কথায় বাজারের দাম নিয়ন্ত্রন করছে ফঁড়েদের হাতে। চাষীদের অভিযোগ, ব্লকে ব্লকে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে কিষানমান্ডি হয়েছে। তাতে আশার আলো দেখেছিলাম। কিন্তু, বেশীরভাগ কিষানমান্ডীতে ধান কেনা ছাড়া আর কিছুই হয় না।

পশ্চিম বর্ধমান জেলায় কাঁকসা ব্লকে উষরমুক্তি প্লাস প্রকল্পে জঙ্গলমহলের গ্রামে উৎপাদক গ্রুপ তৈরী করে লাভজনক সব্জি চাষে জোর দেওয়া হয়। কাঁকসা ব্লকের গোপালপুর ফারাকিডাঙায় প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে করলা, ঢেঁড়স, বিনস চাষ শুরু করা হয়। জনজাতি অধ্যুষিত ফারাকিডাঙার সরকারি ওই জমিতে বছর তিনেক আগে এমজিএনআরজিএস প্রকল্পে আমের বাগান তৈরী করা হয়। ওই ফাঁকা জমিতে নতুন করে সব্জি চাষ শুরু করা হয়। এছাড়াও আমলাজোড়া পঞ্চায়েতের মানিকাড়া, মলানদীঘি পঞ্চায়েতের ঘটকডাঙা, দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের প্রতাপপুর, মাধাইগঞ্জ এলাকায় ওইসব সব্জি বাগান তৈরী হয়। সেখান থেকে নালা ও সৌরবিদ্যুতের পাম্পের মাধ্যমে সেচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয় তাদের উৎপাদিত ফসল সরাসরি সুফল বাংলার হাবে বিক্রি করতে পারবে। তাতে যেমন নির্দিষ্ট বাজার তৈরী হয়েছে। তেমনই সরকারি দামে বিক্রি করে মুনাফা করতে পারবে। কিন্তু সেসব প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। তৃণমূল জামানায় দুয়ারে সব্জি পেতে সুফলবাংলার ভ্রাম্যমান গাড়ী করা হয়। সেসব সুফলবাংলা স্টল মুখ থুবড়ে পড়েছে।দামোদর তীরবর্তী মানাচরের চাষীদের দাবী, কিষানমান্ডীতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সব্জি ক্রয়-বিক্রিয়ের ব্যাবস্থা করুক সরকার। তার সঙ্গে স্থানীয় আড়তগুলোর বৈধতা নিয়ে অভিযান করুক সরকার। তাতে চাষীরা দাম যেমন পাবে, তেমনই বাজার নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

রাজ্যজুড়ে অগ্নিমূল্য সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর তৎপরতা দেখা গেল ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরে। রবিবার, প্রশাসনিক আধিকারিকরা সরাসরি খুচরো বিক্রেতা এবং আড়তদারদের মুখোমুখি হন। কোন সবজি কত দামে কেনা হয়েছে এবং তা কত লাভে বিক্রি হচ্ছে, তার রসিদ পরীক্ষা করা হয়। বেগুন, লঙ্কা ও টমেটোর মতো আকাশছোঁয়া দামের সবজিগুলোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়। সবজির পাশাপাশি মাছ, মাংস এবং অতিরিক্ত চড়া দামে বিক্রি হওয়া হাঁস ও পোল্ট্রির ডিমের দোকানেও কড়া জেরা চালান আধিকারিকরা। এদিনের অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ওজনের স্বচ্ছতা যাচাই করা। ব্যবসায়ীরা যে ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র বা কাঁটা ব্যবহার করছেন, তা সরকারি নিয়ম মেনে ঠিকঠাক রয়েছে কি না এবং তার বার্ষিক রিনিউয়াল বা লাইসেন্স ঠিক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। পরিমাপে কারচুপি রুখতে বেশ কিছু ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয় এবং নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই বলেন, কোনও রকম ফঁড়েরাজ বরদাস্ত করা হবে না। নিয়মিত বাজারের দাম নিয়ন্ত্রনের অভিযান চলবে। সুফল বাংলা স্টল ও ভ্রাম্যমান গাড়ি কি অবস্থায় আছে তদন্ত করা হবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande