বালিখাদানের হিসাব ঘিরে বিক্ষোভ, গোপীবল্লভপুরে ঘেরাও পরিচালন কমিটি
ঝাড়গ্রাম, ২ আগস্ট (হি. স.): সুবর্ণরেখা নদীর বালিখাদানের লভ্যাংশ বণ্টন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল গোপীবল্লভপুর। রবিবার গোপীবল্লভপুর থানার নয়াবসান মৌজায় অবস্থিত বালিখাদানের কার্যালয়ের সামনে কয়েকশো শেয়ারহোল্ড
বালিখাদানের হিসাব ঘিরে বিক্ষোভ, গোপীবল্লভপুরে ঘেরাও পরিচালন কমিটি


ঝাড়গ্রাম, ২ আগস্ট (হি. স.): সুবর্ণরেখা নদীর বালিখাদানের লভ্যাংশ বণ্টন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল গোপীবল্লভপুর। রবিবার গোপীবল্লভপুর থানার নয়াবসান মৌজায় অবস্থিত বালিখাদানের কার্যালয়ের সামনে কয়েকশো শেয়ারহোল্ডার ধর্না ও বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাদানের আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন রাখা হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।

বিক্ষোভ চলাকালীন পরিচালন কমিটির মুখ্য ব্যক্তি রাখাল জানা-সহ ১৫ জন সদস্যকে কয়েক ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। আন্দোলনের জেরে দিনভর বালি উত্তোলনের কাজও বন্ধ থাকে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ২০১৭ সালে ৩১৭ জন শেয়ারহোল্ডারকে নিয়ে বালিখাদান পরিচালনার জন্য একটি সংস্থা গঠিত হয়। পরিচালনার দায়িত্ব ছিল ১৮ সদস্যের কমিটির হাতে। বর্তমানে একজন সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় কমিটিতে রয়েছেন ১৭ জন। অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে একবারও সাধারণ সভা ডাকা হয়নি এবং শেয়ারহোল্ডারদের সামনে আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাবও পেশ করা হয়নি। ফলে খাদানের প্রকৃত আয় ও লভ্যাংশ সম্পর্কে অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডার অন্ধকারে রয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একাধিক বালিখাদান প্লট থেকে বিপুল আয় হলেও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে মাত্র ১২ লক্ষ টাকা লভ্যাংশ বণ্টন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, একটি প্লট থেকেই কয়েক দশ কোটি টাকা আয় হয়েছে। সেই অর্থ কোথায় গেল, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

এছাড়াও শেয়ারহোল্ডারদের নামে একাধিক ব্যাঙ্কের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে সেই অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডারকে না জানিয়েই এই আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন এবং পরিচালন কমিটির কয়েকজন সদস্যের সম্পত্তি বৃদ্ধির বিষয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলার পর গোপীবল্লভপুরের এসডিপিও পারভেজ সরফরাজ এবং থানার আইসি অজয় সিং বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পুলিশের হস্তক্ষেপে ঘেরাও তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অন্যদিকে, ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালন কমিটির মুখ্য ব্যক্তি রাখাল জানা। তাঁর দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, খাদান থেকে এত বিপুল আয়ের দাবি সঠিক নয়। সমস্ত আর্থিক নথি সংরক্ষিত রয়েছে এবং হিসাব-নিকাশে কোনও ধরনের অনিয়ম বা গরমিল নেই।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande