
কুড্ডালোর, ২৬ আগস্ট (হি.স.):তামিলনাড়ুর কুড্ডালোর জেলায় খুনের একটি মামলায় পলাতক থাকা দুষ্কৃতী গোপীকে পুলিশি অভিযানের পর গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় পুলিশের গুলিতে গোপী আহত হয়। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি অপরাধের মামলা রয়েছে। বর্তমানে আহত গোপীর কুড্ডালোর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
বুধবার পুলিশের সূত্রে জানা গেছে , নেয়ভেলি এলাকায় গোপীর নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে আনন্দরাজের নেতৃত্বাধীন অন্য একটি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে বিবাদ চলছিল। গত ১৬ আগস্ট সেই বিবাদ হিংসাত্মক রূপ নেয়। ওই দিন নেয়ভেলিতে মদ্যপান করছিলেন আনন্দরাজ গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য। অভিযোগ, গোপীর সহযোগীরা আচমকা তাঁদের উপর হামলা চালায়।
হামলায় নরেশ নামে এক যুবক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন। গুরুতর আহত হন আনন্দরাজ। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই খুনের ঘটনায় গোপীকে মূল অভিযুক্ত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল।
পুলিশের কাছে খবর আসে, কুড্ডালোরের মুথান্ডিক্কুপ্পম এলাকায় গোপী আত্মগোপন করে রয়েছে। সেই খবরের ভিত্তিতে নেয়ভেলি থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে এলাকা ঘিরে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতার এড়াতে গোপী তার কাছে থাকা ‘অরিভাল’ নামে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে নেয়ভেলি থানার কনস্টেবল পান্ডিয়ারাজন ও বিজয়লসোলান গুরুতর আহত হন।
পুলিশকর্মীদের উপর হামলা হতে দেখে নেয়ভেলি থানার পরিদর্শক সেন্থিল আত্মরক্ষার্থে সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি চালান। গুলি গোপীর বাঁ পায়ে দু’টি জায়গায় লাগে। এরপর ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আহত গোপীকে দ্রুত কুড্ডালোর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে আহত দুই কনস্টেবলকে এনএলসি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদেরও চিকিৎসা চলছে।
এদিন পুলিশ জানিয়েছে, গোপীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৩০টিরও বেশি অপরাধের মামলা রয়েছে। ১৬ আগস্টের খুন, দুই গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিবাদ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অভিযুক্ত ও গোষ্ঠীর সদস্যদের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য