নেপালে ৪৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিল ভারতীয় বায়ুসেনা
নয়াদিল্লি, ২৮ আগস্ট (হি.স.): হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও স্রোতের তাণ্ডবের পর ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ভারতীয় বায়ুসেনা। বিপর্যয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এনডিআরএফের সহায়তায় অভিযান শুরু করে বায়ুসেনা। সি-১৩০জে বিমান দ
নেপালে ৪৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিল ভারতীয় বায়ুসেনা


নয়াদিল্লি, ২৮ আগস্ট (হি.স.): হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও স্রোতের তাণ্ডবের পর ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ভারতীয় বায়ুসেনা। বিপর্যয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এনডিআরএফের সহায়তায় অভিযান শুরু করে বায়ুসেনা। সি-১৩০জে বিমান দিয়ে প্রায় ১০ টন প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নেপালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছিল ওষুধ, অস্থায়ী আশ্রয়ের সামগ্রী, কম্বল ও হাইজিন কিট। এরপর দ্বিতীয় দফায় সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানে আরও ৩৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য প্যাকেট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত নেপালে মোট ৪৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত।

নেপালে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য বায়ুসেনার পরিবহণ বিমানগুলিকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। এই বহরে রয়েছে সি-১৭, সি-১৩০জে এবং সি-২৯৫ বিমান। এদিন সন্ধ্যার মধ্যেই আরও একটি সি-১৩০জে বিমান ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নেপালের উদ্দেশে উড়বে। পাশাপাশি ভারতীয় বায়ুসেনার এমআই-১৭ হেলিকপ্টারও নেপালের দুর্গত মানুষের সাহায্যে দিনরাত উড়ান চালাচ্ছে। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নেপালে যাওয়া বিমানগুলির পরিচালনা করা হচ্ছে বায়ুসেনার হিন্ডন স্টেশন থেকে।

স্টেশনের এয়ার অফিসার কমান্ডিং এয়ার কমোডর আর. ডোভাল বলেন, জরুরি পরিস্থিতির জন্য বায়ুসেনা সবসময় প্রস্তুত থাকে। বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর দ্রুত একটি সি-১৩০জে হারকিউলিস বিমান প্রস্তুত করা হয়। তাতে ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ এবং জেনারেটর তোলা হয়। অসামরিক প্রশাসন ও এনডিআরএফের সহায়তায় প্রস্তুতি শেষ করে অভিযান শুরু করা হয়। রাত প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ বিমানটি উড়ে যায় এবং দুই ঘণ্টার মধ্যেই নেপালে অবতরণ করে প্রায় ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়।

এরপর সি-১৭ বিমানে করে আরও ৩৭.৫ টন মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার সামগ্রী, ওষুধ এবং খাদ্য প্যাকেট নেপালে পাঠানো হয়।

শুক্রবার এয়ার কমোডর ডোভাল জানান, ভারতীয় বায়ুসেনা নিয়মিত দেশের পাশাপাশি নেপাল, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশেও ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। প্রয়োজন হলে নেপালকে আরও সহায়তা দিতে বায়ুসেনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৫ সালে নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময়ও ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৩০ বিমান ত্রাণকর্মী ও চিকিৎসকদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়েতে প্রথম দিকেই অবতরণ করেছিল। সেই সময় বায়ুসেনা ২২০০-রও বেশি উড়ান পরিচালনা করেছিল। এবারের বন্যার পর গত ২৬ আগস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বায়ুসেনাকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande