
কলকাতা, ২৮ আগস্ট (হি.স.): সংস্কৃতভারতী দক্ষিণেশ্বর চর্চাকেন্দ্রের উদ্যোগে সম্পন্ন হলো দশদিনব্যাপী সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির| কলকাতার বিটি রোডের সেবাভারতীতে বৃহস্পতিবার এই শিবিরের সমারোপ অনুষ্ঠান হয়। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, দৈনন্দিন জীবনে সংস্কৃতকে কথ্য ও ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে প্রয়োগের উদ্দেশ্যেই এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিরা| আরএসএস-এর কলকাতা উত্তর বিভাগের কার্যবাহ শুভঙ্কর কুণ্ডু ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরা ও সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত সংস্কৃতচর্চার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংঘ এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলি সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যক্তি নির্মাণের কাজ করে চলেছে।
সংস্কৃতভারতী দক্ষিণবঙ্গ-র প্রান্তমন্ত্রী সন্তু দত্ত এই দশ দিনের প্রশিক্ষণকে ধারাবাহিক সংস্কৃতচর্চার সূচনা হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংস্কৃতভারতী দক্ষিণেশ্বর চর্চাকেন্দ্রের উদ্যোগে প্রতি মাসে একটি করে সম্ভাষণ শিবির আয়োজন করা হচ্ছে। পুজোর ছুটিতে হালিশহরে একটি আবাসিক প্রশিক্ষণ শিবিরেরও আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান।
বিশিষ্ট অতিথি তথা উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক শুভাশিস বেজ গুরুত্ব আরোপ করেন সংস্কৃতকে সহজ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর। মানবচিন্তন, ব্যক্তিত্ববিকাশ এবং সংগঠিত কার্যশক্তি গড়ে তুলতে সংস্কৃতচর্চার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবিরের সমন্বয়ক ডঃ প্রণব বর জানান, গত কয়েক মাস ধরে এই ধরণের সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির নিয়মিতভাবে আয়োজিত হচ্ছে। আগামী দুই মাসেও একটি করে সম্ভাষণ শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এও বলেন, দশ দিনের প্রশিক্ষণ শেষ হলেও সংস্কৃতচর্চা এখানেই থেমে থাকবে না। চর্চাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে নিয়মিত অনুশীলন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সংস্কৃত ভাষা ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত রাখা হবে।
সমারোপ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংস্কৃতের ব্যবহারিক প্রয়োগভিত্তিক বিভিন্ন উপস্থাপনা পরিবেশিত হয়। দূরবাণী, আপণ (দোকান) এবং বৈদ্য-রোগীর কথোপকথনের নাট্যরূপ উপস্থাপনের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে সংস্কৃত ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এছাড়াও ‘মম দেশভারতম্’ ও ‘একশৃগালঃ’ নৃত্যানুষ্ঠান, একক সঙ্গীত এবং ‘মনসা সততম্’ গণগীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংস্কৃতভাষী শিশু লাচিতের উপস্থিতি। সঞ্চালিকার বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল সংস্কৃত উচ্চারণ উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। এ দিন শান্তিমন্ত্র পাঠের মাধ্যমে সমারোপ অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ