ত্রিপুরার কীর্তনীয়াদের সমৃদ্ধ করতে তিন দিনের কর্মশালা শুরু
আগরতলা, ২৮ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরার কীর্তনীয়াদের আরও সমৃদ্ধ ও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো তিন দিনের কীর্তন বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করল তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। শুক্রবার আগরতলায় ভগৎ সিং যুব আবাসের প্রেক্ষাগৃহে এই কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সূচনা
কীর্তনীয়াদের কর্মশালা


আগরতলা, ২৮ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরার কীর্তনীয়াদের আরও সমৃদ্ধ ও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো তিন দিনের কীর্তন বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করল তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। শুক্রবার আগরতলায় ভগৎ সিং যুব আবাসের প্রেক্ষাগৃহে এই কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। কর্মশালা চলবে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।

রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরম্পরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ কীর্তন। দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে কীর্তনচর্চা হয়ে আসলেও কীর্তনীয়াদের প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানবর্ধনের জন্য সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের কর্মশালা এই প্রথম। কীর্তনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে শিল্পীদের আরও সমৃদ্ধ করা এবং এই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের মধ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই কর্মশালার অন্যতম উদ্দেশ্য।

শুক্রবার কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী, আগরতলা পৌর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

কর্মশালায় রাজ্যের কীর্তনীয়াদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাঁচজনের একটি বিশেষজ্ঞ দল অংশগ্রহণ করেছে। তিন দিনব্যাপী কর্মসূচিতে কীর্তনের বিভিন্ন বিষয়, পরিবেশনের ধরন, সুর-তাল, উপস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে রাজ্যের কীর্তনশিল্পীরা নতুন অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল বলেন, রাজ্যের পরম্পরা ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই উদ্যোগেরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো কীর্তন বিষয়ক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যের কীর্তনীয়াদের আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কর্মশালায় উপস্থিত বিভিন্ন শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, কীর্তনের মতো ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে শুধুমাত্র অনুষ্ঠান আয়োজনই যথেষ্ট নয়, শিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত চর্চার সুযোগ তৈরি করাও প্রয়োজন। সেই দিক থেকে এই কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভবিষ্যতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের আরও বেশি কীর্তনীয়াকে নিয়ে এই ধরনের কর্মশালা আয়োজনের দাবিও উঠেছে।

তবে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই কর্মশালায় জনজাতি অংশের কীর্তনীয়াদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। রাজ্যের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কীর্তনশিল্পীদের আরও বেশি করে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ত্রিপুরার বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীদের একাংশ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande