
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৯ আগস্ট (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে ফের প্রকাশ্যে এল মাদক কারবারের অভিযোগ। রেলগেট সংলগ্ন শ্মশান কালীমন্দিরের পাশের একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ড্রাগসের পাইকারি কেনাবেচা চলছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে মইনুল মিয়া নামে জনৈক যুবকের নাম। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার ধর্মনগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত ধর্মনগরের রাজবাড়ি এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, এদিন তিন যুবক সেখানে ড্রাগস বিক্রি করতে এলে এলাকাবাসী তাঁদের আটক করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুবকেরা মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। যদিও তাঁদের বক্তব্যের সত্যতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও পুলিশের তদন্তের বিষয়।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই তিন যুবকের কাছে মাদক কোথা থেকে আসছে, তা জানতে চাইলে তাঁরা কয়েকজন ব্যক্তির নাম প্রকাশ করে। এরপর আটক তিন যুবককে সঙ্গে নিয়ে এলাকাবাসীর একটি দল রেলগেট সংলগ্ন শ্মশান কালীমন্দিরের পাশের মইনুল মিয়ার বাড়ির দিকে রওনা হয়।
তবে এলাকাবাসী সেখানে পৌঁছানোর আগেই মইনুল মিয়া এবং তাঁর স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। বাড়িতে উপস্থিত এক বয়স্ক মহিলাকে মাদক কারবার সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি প্রথমে বাড়িতে কোনও ধরনের ড্রাগস কারবার চলার অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতার কয়েকজন বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান। তবে ঠিক কারা এই ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে মইনুল মিয়া কিংবা তাঁর সহযোগীদের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়।
খবর পেয়ে পরে ধর্মনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরপর কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তল্লাশিতে ড্রাগস-সংক্রান্ত বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃতি, পরিমাণ এবং সেগুলি মাদকদ্রব্য হিসেবে আইনের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে ঘটনায় কতজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও তদন্তের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মনগরের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, মাদকের অবাধ বিস্তার রুখতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
এদিকে, ঘটনায় আটক তিন যুবকের বক্তব্য, তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং স্থানীয়দের অভিযোগ—সবকিছু খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মাদক কারবারের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ধর্মনগরকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং যুবসমাজকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ