দৃষ্টিহীনদের রাজ্য বাছাই দাবা প্রতিযোগিতার সফল সমাপন, অংশ নেন ১২০ জন দৃষ্টিহীন দাবাড়ু
কলকাতা, ৩০ আগস্ট (হি. স.): দৃষ্টিহীন দাবাড়ুদের নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া এবং জাতীয় স্তরে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করার লক্ষ্যে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘অল বেঙ্গল চেস সিলেকশন চ্যাম্পিয়নশিপ ফর দ্য ভিজ্যুয়ালি চ্যালেঞ্জড’-এর রবিবারে সফল সমাপন ঘটল।
দাবা প্রতিযোগিতার সফল সমাপন


কলকাতা, ৩০ আগস্ট (হি. স.): দৃষ্টিহীন দাবাড়ুদের নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া এবং জাতীয় স্তরে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করার লক্ষ্যে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘অল বেঙ্গল চেস সিলেকশন চ্যাম্পিয়নশিপ ফর দ্য ভিজ্যুয়ালি চ্যালেঞ্জড’-এর রবিবারে সফল সমাপন ঘটল। বরানগরের বনহুগলিস্থিত ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর লোকোমোটর ডিজঅ্যাবিলিটিজ’ (NILD)-এর সভাগৃহে এক উদ্দীপনাপূর্ণ পরিবেশে এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। ‘সক্ষম দক্ষিণবঙ্গ’, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল চেস অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘ক্রীড়া ভারতী’-র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বাছাই প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ১২০ জন দৃষ্টিহীন দাবাড়ু অংশ নেন, যার মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয় প্রতিযোগীই ছিলেন।

এই প্রতিযোগিতার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই আগামী জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতার জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দল নির্বাচন করা হবে। তিন দিন ধরে প্রতিযোগীরা তাঁদের বুদ্ধিমত্তা, একাগ্রতা ও কৌশলী চালের দুর্দান্ত পারদর্শিতা প্রদর্শন করেন।

গত ২৮ আগস্ট এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তী, দক্ষিণবঙ্গের প্রাক্-প্রান্ত প্রচারক প্রশান্ত ভাট, ক্ষেত্রীয় সংঘচালক ড. জয়ন্ত রায় চৌধুরী, প্রান্ত সংঘচালক সারদা প্রসাদ পাল এবং ভারতের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার তথা অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত দিব্যেন্দু বড়ুয়াসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও তরুণদের নিয়ে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনভর দাবার লড়াইয়ের পর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দৃষ্টিহীন প্রতিযোগীরা গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। তাঁদের এই পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের আবেগপ্লুত করে তোলে এবং এই বার্তাই দেয় যে শারীরিক সীমাবদ্ধতা প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাসের পথে বাধা হতে পারে না।

তৃতীয় দিন, ৩০ আগস্ট সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদ্বত মুখার্জি। এছাড়া ‘সক্ষম’-এর জাতীয় সভাপতি ড. দয়াল সিং পাওয়ার, বর্ষীয়ান সমাজকর্মী সুনীল পদ গোস্বামী, শশাঙ্ক শেখর দে এবং রমেশ সরোগীসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ‘সক্ষম দক্ষিণবঙ্গ’-এর সভাপতি ড. অরবিন্দ ব্রহ্ম। নিজের সভাপতির ভাষণে তিনি বিজয়ী দাবাড়ুদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “দাবার এই ৬৪টি ঘর আমাদের শিখিয়েছে যে দৃষ্টি শুধু চোখে থাকে না, দৃষ্টি থাকে মনে।” প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সমস্ত প্রতিযোগীর প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখানো খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার, প্রশংসাপত্র ও পদক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গের খেলোয়াড়দের বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়।

উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য কেবল বিজয়ী তৈরি করা নয়, বরং দৃষ্টিহীন দাবাড়ুদের সমান সুযোগ, সম্মান এবং আত্মপ্রকাশের জন্য একটি শক্তিশালী মঞ্চ প্রদান করা। এই আয়োজনের মাধ্যমে দাবাড়ুরা রাজ্য থেকে জাতীয় স্তরে পৌঁছানোর সুযোগ পেলেন।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই তিন দিনব্যাপী রাজ্য বাছাই প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার জন্য এনআইএলডি কর্তৃপক্ষ, বিচারক মণ্ডলী এবং সমস্ত স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উদ্যোক্তারা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande