
সাব্রুম (ত্রিপুরা), ৩০ আগস্ট (হি.স.) : পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগের পর জনৈক মহিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমের কাঁঠালছড়ি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত মহিলার নাম লক্ষ্মী দেবনাথ। পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে তাঁর ছোট ছেলের বউ কৃষকা দেবনাথের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এরপরই লক্ষ্মী দেবনাথের অসুস্থ হয়ে মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে লক্ষ্মী দেবনাথের সঙ্গে তাঁর ছোট ছেলের বউ কৃষকা দেবনাথের বিবাদ হয়। অভিযোগ, সেই বিবাদের জেরে লক্ষ্মী দেবনাথকে মারধর করা হয়। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বিচার চাইতে তিনি স্থানীয় গ্রাম প্রধানের দ্বারস্থ হন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের অভিযোগ, গ্রাম প্রধানের কাছে বিষয়টি জানানোর পর লক্ষ্মী দেবনাথ বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু বাড়িতে ফেরার পর ফের তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই তিনি একটি তরল পদার্থ পান করেন বলে জানা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ তাঁকে সাব্রুম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা শুরু করলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই লক্ষ্মী দেবনাথের মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, লক্ষ্মী দেবনাথের মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে তিনি যে তরল পদার্থ পান করেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে, সেটি কী ছিল এবং তার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার বলে দাবি স্থানীয়দের।
মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, কোনও পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনতে হবে।
লক্ষ্মী দেবনাথের স্বামী প্রয়াত মানিক দেবনাথ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একইসঙ্গে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হলেও লক্ষ্মী দেবনাথের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং মারধরের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ফলে তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মৃতার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ