নির্মাণের কয়েক বছরেই বেহাল বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৩১ আগস্ট (হি.স.) : শিক্ষার মন্দিরে উন্নয়নের নামে নির্মাণকাজ, অথচ নির্মাণ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই সেই পরিকাঠামোতে দেখা দিয়েছে বেহাল দশা। কোথাও দেওয়ালে ফাটল, কোথাও মাটি সরে গিয়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম বাউন্ডারি ওয়
বেহাল অবস্থা পরিকাঠামো


তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৩১ আগস্ট (হি.স.) : শিক্ষার মন্দিরে উন্নয়নের নামে নির্মাণকাজ, অথচ নির্মাণ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই সেই পরিকাঠামোতে দেখা দিয়েছে বেহাল দশা। কোথাও দেওয়ালে ফাটল, কোথাও মাটি সরে গিয়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম বাউন্ডারি ওয়াল। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় সংলগ্ন মাটি ধসে পড়ায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। অভিযোগ এমনই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণকাজের গুণমান নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

ঘটনাটি খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত মাইগঙ্গা সুকান্ত দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে। অভিযোগ, বছর তিনেক আগে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন পাকা ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যালয় চত্বরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়। সরকারি অর্থে নির্মিত সেই বাউন্ডারি ওয়ালই বর্তমানে বিভিন্ন অংশে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টির ফলে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার মাটি ধসে পড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে বাউন্ডারি ওয়ালের উপরেও। মাটি সরে যাওয়ার কারণে একাধিক অংশে দেওয়াল হেলে পড়েছে। কোথাও আবার দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে যে কোনও সময় বাউন্ডারি ওয়ালের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই যদি একটি সরকারি বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে নির্মাণকাজের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাঁদের বক্তব্য, নির্মাণের সময় কাজের মান ও ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণমান নিয়ে যথাযথ নজরদারি করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে, বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পিনাক পানি দেব। বিদ্যালয়ে প্রতিদিন বহু ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকের যাতায়াত রয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা দেওয়াল নিয়ে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, বিদ্যালয় চত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোনও ধরনের নির্মাণকাজে সামান্য গাফিলতিও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার সময় মাটি ধসে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে বাউন্ডারি ওয়ালের ভিত্তি কতটা মজবুত, তা পরীক্ষা করা জরুরি। দেওয়ালের কোনও অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়লে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

ঘটনাকে ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন উঠছে নির্মাণকাজের গুণমান এবং নজরদারি নিয়ে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি পরিকাঠামো কয়েক বছরের মধ্যেই যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, ঠিকাদার এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে বাউন্ডারি ওয়ালের নির্মাণকাজের গুণমান পরীক্ষা করা হোক। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দিয়ে দেওয়ালের স্থায়িত্ব ও ভিত্তি পরীক্ষা করানোরও দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাইগঙ্গা সুকান্ত দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং নির্মাণকাজে কোনও অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande