
নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট (হি.স.): প্রয়াগরাজে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রস্তাবিত ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির অনুমতি বাতিল হওয়ার পর বিজেপি এবং উত্তর প্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করে কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে লক্ষাধিক ছাত্র ইতিমধ্যেই নাম নথিভুক্ত করেছেন এবং যে কোনও পরিস্থিতিতেই এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস।
বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে উত্তর প্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম, সাংসদ ইমরান মাসুদ, তনুজ পুনিয়া ও কিশোরীলাল শর্মা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তোলেন।
রাজেন্দ্র পাল গৌতম বলেন, ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে পড়ুয়াদের সমস্যাকে সামনে আনছেন। কোটা ও দেরাদূনের পর প্রয়াগরাজে এই কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক ছাত্র এতে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে সভা করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত এবং নির্ধারিত স্থানেই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদের অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর আহ্বানে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছে। সেই কারণেই বিজেপি সরকার ভয় পেয়ে কর্মসূচি আটকানোর চেষ্টা করছে। তবে সরকারের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে এবং কর্মসূচি নির্ধারিতভাবেই হবে বলে তিনি দাবি করেন।
অমেঠির সাংসদ কিশোরীলাল শর্মা বলেন, ছাত্রদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গণতন্ত্রবিরোধী। কংগ্রেস ছাত্রদের পাশে রয়েছে এবং তাদের অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, প্রয়াগরাজে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যখন কেপি কলেজ কর্তৃপক্ষ পূর্বে দেওয়া অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। কলেজ পরিচালন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চৌধুরী জিতেন্দ্রনাথ সিং জানিয়েছেন, অধ্যক্ষের রিপোর্ট এবং এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনে কোনও বিঘ্ন না ঘটে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠান হলে দুই বিদ্যালয়ের পড়াশোনায় প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি টানা বৃষ্টির কারণে খেলার মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই বর্ষা শেষ হওয়ার পর বা ছুটির সময় কর্মসূচি করার অনুরোধ জানিয়ে পূর্বে দেওয়া অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং জমা অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য