
নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট (হি.স.): ওড়িশার চাঁদিপুরের সমন্বিত পরীক্ষণ কেন্দ্র (আইটিআর) থেকে বৃহস্পতিবার সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল ভারতের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৪। ড. এ.পি.জে. আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এই পরীক্ষা চালায়। উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ নির্ধারিত পাল্লা অতিক্রম করে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড-এর তত্ত্বাবধানে হওয়া এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই হয়েছে। পরীক্ষাটি ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নি-৪ একটি আধুনিক, উচ্চ-নির্ভুলতা সম্পন্ন মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে ১,০০০ কেজি ওজনের পেলোড বহন করতে সক্ষম। সড়কভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার থেকেও এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা যায়।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত নেভিগেশন ও গাইডেন্স ব্যবস্থার ফলে অগ্নি-৪ অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এটি একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও অর্জন করেছে।
ডিআরডিও জানিয়েছে, অগ্নি-৪-কে আগে অগ্নি-২ প্রাইম নামে পরিচিত করা হতো। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের অগ্নি সিরিজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। কঠিন জ্বালানিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্রে অত্যাধুনিক নেভিগেশন ও নির্দেশন ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়েছে, যা দ্রুত মোতায়েন এবং নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এই সফল পরীক্ষা ভারতের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিকাশে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য