
নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (হি.স.) : রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেছেন যে তাঁত (হাত তাঁত) শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। ডিজাইনার এবং স্টার্টআপগুলির উচিত ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পকে ব্র্যান্ড এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যায়নের (গ্লোবাল ভ্যালু চেইন) সঙ্গে যুক্ত করে এই ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করা।
রাষ্ট্রপতি শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় হস্ততাঁত দিবস উৎসবে 'সন্ত কবীর হস্ততাঁত পুরস্কার' এবং 'জাতীয় হস্ততাঁত পুরস্কার-২০২৫' প্রদান করেন। এই উপলক্ষে ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় তাঁত ঐতিহ্যকে উৎসর্গ করে চারটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁতশিল্প শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতের সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে। এটি দেশের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন, শিল্প ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীলতাকে উৎসাহিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আত্মনির্ভরতার ভাবনার সঙ্গেও তাঁতশিল্পের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে স্বদেশী আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল স্বদেশী পণ্য, দেশীয় শিল্প এবং বিশেষ করে দেশের তাঁতিদের উৎসাহিত করা। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর ৭ আগস্ট দিনটি জাতীয় হস্ততাঁত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তিনি তাঁত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলকে জাতীয় হস্ততাঁতদিবসের শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের তাঁত খাত গ্রামীণ প্রিমিয়াম অর্থনীতির এক মানবিক ও শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রধান তাঁত ক্লাস্টারগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও সমসাময়িক প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে এবং তাঁতিদের আয় বাড়াতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের প্রচেষ্টায় ভারতীয় তাঁত খাতের বৈশ্বিক পরিচয় একটি ভেরিফায়েড কালচারাল ইকোনমি হিসেবে আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষ অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এখন এই পেশায় এগিয়ে আসছেন। সরকারি প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে তরুণদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করা উচিত, যাতে তাঁদের উৎসাহ ও দক্ষতা তাঁত খাতের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারে। তিনি বলেন, 'ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হ্যান্ডলুম টেকনোলজি' এবং 'ওয়েভার্স সার্ভিস সেন্টার'-এর অধীনে স্থাপিত ডিজাইন রিসোর্স সেন্টারগুলি তরুণদের এই খাতের সঙ্গে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ডিজিটাল সমাধান এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভারতীয় তাঁত পণ্যের বাজারজাতকরণ ও বৈশ্বিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, তাঁত শিল্প দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন যাত্রা এবং আত্মনির্ভর ভারত গড়ার এক মজবুত ভিত্তি হয়ে উঠবে।
উল্লেখযোগ্য যে, সন্ত কবীর হস্ততাঁত পুরস্কার দেশের তাঁতিদের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মান, আর জাতীয় হস্ততাঁত পুরস্কার অসামান্য সৃজনশীলতা, গুণমান, উদ্ভাবন এবং ঐতিহ্যগত দক্ষতার সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য তাঁতি ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের প্রদান করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি