অসমের রেল নেটওয়ার্ক এখন ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়িত, সম্পূর্ণ হলো দুর্গম লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি পথ
হাফলং (অসম), ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : অসমের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হলো এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। রাজ্যের সমগ্র রেল নেটওয়ার্ক এখন ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়িত। অত্যন্ত দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি রেলপথের বিদ্যুতায়নের ক
Electrification


হাফলং (অসম), ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : অসমের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হলো এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। রাজ্যের সমগ্র রেল নেটওয়ার্ক এখন ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়িত। অত্যন্ত দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি রেলপথের বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে অসমের রেলপথ বিদ্যুতায়নের দীর্ঘ স্বপ্ন পূর্ণতা পেল।

লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি অংশটি উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্গম রেলপথ হিসেবে পরিচিত। পাহাড় কেটে, অসংখ্য বাঁক, সুড়ঙ্গ, সেতু ও গভীর খাদ অতিক্রম করে এই রেলপথটি বদরপুরের সঙ্গে লামডিংকে সংযুক্ত করেছে। তীব্র ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে এই অংশে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করায় অসমের সামগ্রিক রেল পরিষেবায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেলপথের শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, তেমনই ট্রেন পরিচালনায় জ্বালানি খরচ সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং রেল পরিষেবার সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে এই পাহাড়ি রুটে ট্রেনের গতি ও পরিচালন ব্যবস্থাতেও বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি রেলপথটি অসমের পাশাপাশি বরাক উপত্যকা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়েই প্রতিদিন প্রচুর যাত্রী ও পণ্য পরিবাহিত হয়। বিদ্যুতায়নের সুবাদে এবার থেকে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও দ্রুত, কার্যকর ও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।

বিশেষ করে পাহাড়ি ডিমা হাসাও জেলার জন্য এই রেলপথের ভূমিকা অপরিসীম। হাফলং সহ সমগ্র জেলার মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন শিল্প এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের মূল ভিত্তি এই রেল পথটি। রেলপথের এই আধুনিকীকরণ ও বিদ্যুতায়ন পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সুদূরপ্রসারী সুফল আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অসমের সামগ্রিক রেল নেটওয়ার্কের ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়ন কেবল রাজ্যের জন্যই নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল পরিকাঠামো বিকাশের ক্ষেত্রেও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কঠিন পাহাড়ি অঞ্চলেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পরিবেশবান্ধব, দ্রুত ও টেকসই রেল পরিষেবা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই সাফল্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande