
ভিলওয়াড়া, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সরসঙ্ঘচালক ড. মোহন ভাগবত সোমবার ভিলওয়াড়ায় অবস্থানরত রাষ্ট্রসন্ত আচার্য পুলকসাগর মহারাজের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। সূর্যমহলে আয়োজিত এই বৈঠকে উভয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে এক সুদীর্ঘ আলোচনা চলে। বৈঠককালে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা, প্রাচীন জৈন তীর্থক্ষেত্রের সংরক্ষণ, গো-সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও সামাজিক বিষয়ে বিষদ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
আলোচনাকালে সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে আচার্য পুলকসাগর মহারাজ বলেন, সমাজকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি তথাকথিত ইউজিসি নিয়ম কার্যকর না করার পাশাপাশি উচ্চবর্ণ ও অনগ্রসর শ্রেণীর মধ্যে যাতে কোনো বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর পাশাপাশি, জৈন সমাজের পরম আস্থার কেন্দ্রবিন্দু সমেত শিখরজি ও গিরনার সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী জৈন তীর্থস্থানগুলির পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করেন। ড. ভাগবত জৈন তীর্থক্ষেত্র সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জগুলি গুরুত্ব সহকারে শোনে এবং উপযুক্ত স্তরে আলোচনা করে এর দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
গোবংশ সুরক্ষার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রেখে আচার্য পুলকসাগর বলেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে গোশালা স্থাপন করা উচিত, যাতে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের গোসেবা ও গো-সংরক্ষণ এর মতো কল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিভেদ ও বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণ ও শান্তির বার্তা প্রসারে আরএসএস-এর ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। অন্যদিকে, ড. মোহন ভাগবত তাঁর সাম্প্রতিক আমেরিকা ও ব্রিটেন সফরের নানা অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ আচার্যশ্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এর আগে, সাক্ষাতের সূচনায় ড. ভাগবত প্রথা ও শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে আচার্য পুলকসাগরের পদ প্রক্ষালন করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। আচার্যশ্রীও তাঁকে আশীর্বাদ প্রদান করেন। এই বিশেষ মুহূর্তে ড. ভাগবত ইন্দোরের বাসিন্দা সরোজ শাহ কর্তৃক রচিত আচার্য পুলকসাগর মহারাজের জীবনীভিত্তিক পুস্তক ‘এক অউর মুক্তিদূত’-এর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন এবং প্রথম কপিটি আচার্যশ্রীর হাতে তুলে দেন।
উক্ত বৈঠকে আরএসএস-এর সর্বভারতীয় সহ-প্রচারক প্রধান অরুণ জৈন, ক্ষেত্র প্রচারক নিম্বারাম, প্রান্ত প্রচারক মুরলীধর এবং শ্রী পুলকসাগর চাতুর্মাস সমিতির সভাপতি প্রবীণ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সমিতির সভাপতি প্রবীণ চৌধুরী জানান, ইতিপূর্বে ২০১১ সালেও আচার্য পুলকসাগর মহারাজের ভিলওয়াড়া অবস্থানকালে ড. ভাগবত তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এবং পরবর্তী সময়েও তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় ছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি