
আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মানবসেবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত রক্তদান। বিজ্ঞান অনেক দূর এগিয়ে গেলেও কৃত্রিমভাবে মানুষের রক্ত তৈরি করা এখনও সম্ভব হয়নি। ফলে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে একজন মানুষের দান করা রক্তই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় ভরসা। এই মানবিক বার্তাকে সামনে রেখে নিখিল ত্রিপুরা মহানাম সেবক সংঘের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।
রাজধানী আগরতলায় কাঁসারী পট্টি এলাকায় শ্রীশ্রী মহানাম অঙ্গন আশ্রম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই রক্তদান শিবিরকে ঘিরে সংগঠনের সদস্য ও ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, কর্পোরেটর রত্না দত্ত সহ শ্রীশ্রী মহানাম অঙ্গন আশ্রমের সাধু-সন্ত এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
শিবিরের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, সমাজে যখনই কোনও বিপদ কিংবা বিপর্যয় এসেছে, তখনই নিখিল ত্রিপুরা মহানাম সেবক সংঘ এবং মহানাম অঙ্গন আশ্রম মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলি শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নজিরও তৈরি করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহানাম অঙ্গন আশ্রম কাঁসারী পট্টি এলাকায় প্রতিষ্ঠার সময় নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে আজ আশ্রমটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। রক্তদান শিবিরের মতো সামাজিক কর্মসূচি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করে। একই সঙ্গে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মানসিকতাও তৈরি করে।
রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষের দান করা রক্তের বিভিন্ন উপাদান পৃথকভাবে ব্যবহার করে একাধিক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। অর্থাৎ একজন রক্তদাতার সামান্য উদ্যোগও একাধিক মানুষের জন্য জীবনদায়ী হয়ে উঠতে পারে। তাই সুস্থ-সবল মানুষের উচিত নিয়মিত রক্তদানে এগিয়ে আসা এবং অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহিত করা।
যুব সমাজের অংশগ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তরুণ প্রজন্ম যত বেশি যুক্ত হবে, ততই তাদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে উঠবে। সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকার ফলে অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার প্রবণতা বাড়বে। বিশেষ করে মাদকাসক্তির মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে যুব সমাজকে সচেতন ও সক্রিয় করার ক্ষেত্রেও এই ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
এদিনের রক্তদান শিবিরে মোট ২০ জন রক্তদাতা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনের পক্ষ থেকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তাই তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ