গণেশ পূজায় লাড্ডু-মোদকের চাহিদা তুঙ্গে, যোগান দিতে হিমশিম মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা
আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় গণেশ পূজাকে ঘিরে এবার মিষ্টির বাজারেও দেখা গেল উৎসবের আমেজ। সিদ্ধিদাতা গণেশের প্রিয় লাড্ডু ও মোদকের চাহিদা এদিন ছিল তুঙ্গে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে লাড্ডু ও মোদক কিনতে ভিড় করেন পূজা উদ
গণেশ পূজায় মোদকের চাহিদা


আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় গণেশ পূজাকে ঘিরে এবার মিষ্টির বাজারেও দেখা গেল উৎসবের আমেজ। সিদ্ধিদাতা গণেশের প্রিয় লাড্ডু ও মোদকের চাহিদা এদিন ছিল তুঙ্গে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে লাড্ডু ও মোদক কিনতে ভিড় করেন পূজা উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। চাহিদার তুলনায় কোথাও কোথাও যোগান কম থাকায় রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের।

পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের মতো ত্রিপুরায় গণেশ পূজার দীর্ঘ ঐতিহ্য না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্যে এই পুজোর প্রসার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী আগরতলায় প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতেই এবার গণেশ পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ছোট-বড় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে চলছে সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা। আর গণেশ পূজা মানেই সাজসজ্জার পাশাপাশি নৈবেদ্যে লাড্ডু ও মোদকের উপস্থিতি যেন অপরিহার্য।

এই কারণে গণেশ পূজাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই রাজধানীর মিষ্টির দোকানগুলিতে লাড্ডু ও মোদকের বিশেষ চাহিদা তৈরি হয়েছিল। অনেক পূজা উদ্যোক্তা আগে থেকেই বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে বিপুল পরিমাণ লাড্ডু ও মোদকের অর্ডার দিয়ে রেখেছিলেন। এর পাশাপাশি বহু পরিবারেও গণেশ পূজা উপলক্ষ্যে বাড়িতে পুজো ও প্রসাদের জন্য এই দুই ধরনের মিষ্টি কেনার প্রবণতা রয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যায় চাহিদা।

রাজধানীর নেতাজি চৌমুহনী এলাকার জনৈক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী জানান, গণেশ পূজা উপলক্ষ্যে এবার আগে থেকেই প্রচুর লাড্ডু ও মোদকের অর্ডার এসেছিল। সেই অর্ডার পূরণ করার পরও বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত পরিমাণে লাড্ডু ও মোদক তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে, সেগুলিও দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। তাঁর কথায়, বিগত বছরগুলির তুলনায় এবছর লাড্ডু ও মোদকের চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে।

এদিন রাজধানীর বেশ কিছু মিষ্টির দোকানে গিয়ে দেখা যায়, লাড্ডু ও মোদকের জোগান প্রায় শেষের দিকে। কোথাও আবার ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন করে তৈরি করতে ব্যস্ত ছিলেন কারিগররা। পূজা উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও পরিবারের জন্য লাড্ডু ও মোদক কিনতে দোকানে ভিড় করেন। ফলে উৎসবের দিনটিতে কার্যত ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী ও কারিগরদের।

শুধু লাড্ডু ও মোদক নয়, গণেশ পূজাকে ঘিরে অন্যান্য মিষ্টির বিক্রিও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবারের বাজারে বিশেষ আকর্ষণ ছিল গণেশের প্রিয় বলে পরিচিত লাড্ডু ও মোদক। চাহিদা বেশি থাকায় বিভিন্ন দোকানে দামেও ছিল বৈচিত্র্য।

জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে লাড্ডুর দাম ছিল আকার ও ধরন অনুযায়ী ৫ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে সাধারণ মোদক বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০ টাকা করে। আবার কোনও কোনও মিষ্টির দোকানে বিশেষ ধরনের বা বড় আকারের মোদকের দাম ৫০০ টাকা পর্যন্ত ছিল। ফলে সাধ্যের মধ্যে সাধারণ লাড্ডু কেনার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের মোদকও কিনেছেন ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীদের মতে, আগরতলায় গণেশ পূজার সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের বাজারও তৈরি হচ্ছে। পুজোর সঙ্গে যুক্ত নানা সামগ্রীর পাশাপাশি মিষ্টির বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে লাড্ডু ও মোদকের মতো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির চাহিদা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande