দেবের বাড়িতে গণেশ পুজোয় সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি-ঘনিষ্ঠতার জল্পনা তুঙ্গে
কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেবের কলকাতার বাসভবনে আয়োজিত গণেশ পুজোয় মঙ্গলবার হাজির হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অন
সুকান্ত মজুমদার ও দেব


কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দেবের কলকাতার বাসভবনে আয়োজিত গণেশ পুজোয় মঙ্গলবার হাজির হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য, রাজ্য বিজেপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অনল বিশ্বাস যোগ দেওয়ার পর তাঁর বাসভবনে বিজেপি নেতাদের এই উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

যদিও সুকান্ত মজুমদার এই সাক্ষাৎকে সম্পূর্ণ ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক সম্ভাবনা খোঁজার কথা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। বিজেপি ও এনসিপিআই-এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান নৈকট্য সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষ যেন এতে অনর্থক রাজনৈতিক অর্থ খোঁজার চেষ্টা না করে। দেবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহু পুরোনো বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সুকান্তবাবু বলেন, সেই সময় তৃণমূলের তারকা প্রচারক হিসেবে দেব তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে প্রচারে গিয়েছিলেন। সেখানে দেব মঞ্চ থেকে দু'জনের সুসম্পর্কের কথা বলেছিলেন এবং মন্তব্য করেছিলেন যে ভালো প্রার্থীই নির্বাচনে জিতবে। সুকান্তবাবুর মতে, দেবের সেই উদার মানসিকতা তাঁর খুব ভালো লেগেছিল। তিনি স্পষ্ট করেন, দেবের বাড়িতে গণেশ পুজোয় তাঁর যাওয়াটা ছিল খাঁটি সৌজন্যের খাতিরে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে ওই সাংসদরা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা মোদী সরকারের মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠকে বসেছিলেন, যেখানে দেব নিজেও উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু রাজ্যে ফেরার পর তিনি এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বিশেষ কোনও ঘনিষ্ঠতা দেখাননি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সুকান্ত মজুমদারও এতদিন তাঁদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। এমতাবস্থায় গণেশ পুজো উপলক্ষে দেব ও সুকান্তের এই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

ইতিমধ্যে, গত সোমবার কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া দাবি করেছিলেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জন খুব শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। তিনি আরও দাবি করেছিলেন যে, তিন জন সংখ্যালঘু সাংসদ বিজেপিতে যোগ না দিলেও এনডিএ-কে সমর্থন করবেন।

জগদীশ চন্দ্রের এই দাবির প্রেক্ষিতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেছিলেন যে, এই সাংসদরা যে বিজেপিতে যোগ দিতে চান, সেটি হয়তো ‘মঙ্গল গ্রহের বিজেপি’। কিন্তু তার পরদিনই গণেশ পুজো উপলক্ষে দেবের বাসভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে সেই সমস্ত দাবি ও জল্পনাকে পুনরায় উসকে দিল।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande