
নয়াদিল্লি, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার কাজকে উৎসাহিত করা এবং ‘অ্যাক্সেস পাস’ ও এলওএ-ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার গুজরাতের গান্ধীনগরে এক দিনের জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করবে ভারত সরকারের মৎস্য দফতর। এই কর্মশালার উদ্দেশ্য, ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে উৎসাহিত করা, তাঁদের বাস্তব সমস্যাগুলি বোঝা এবং এই ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির পরামর্শ গ্রহণ করা।
কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ এবং পঞ্চায়েতি রাজমন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংহ (ললন সিংহ), গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল এবং কেন্দ্রীয় মৎস্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক এসপি সিংহ বঘেল কর্মশালায় উপস্থিত থাকবেন। দেশজুড়ে মহিলা মৎস্যজীবী-সহ মৎস্যজীবীরা, কেন্দ্র ও উপকূলবর্তী রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির আধিকারিকরা এবং আইসিএআর, সিফনেট, নাবার্ড, এনসিইএল, এনসিডিসি, সিআই ও এমপিইডিএ-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।
বুধবার মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের সম্পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কর্মশালায় প্রযুক্তিগত অধিবেশন হবে। এর মধ্যে থাকবে সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনা, আধুনিক নৌযানের ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন, মাছ প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজন এবং রফতানি বাজারে প্রবেশের মতো বিষয়। ভারতের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) এবং গভীর সমুদ্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, মৎস্যজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সমবায় মডেলের মাধ্যমে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়েও বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মাছ ধরার কার্যকলাপ উপকূল থেকে ৪০-৫০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ গভীর সমুদ্র অঞ্চলে টুনার মতো উচ্চমূল্যের মাছ আহরণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের প্রায় ১১,০৯৯ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং প্রায় ২৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এই অঞ্চলে প্রায় ৫৮.৬ লক্ষ মেট্রিক টন সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে। প্রায় ৫০ লক্ষ মৎস্যজীবীর জীবিকার ভিত্তিও এই ক্ষেত্র।
কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৭৩,৮৯০ কোটি টাকা মূল্যের সামুদ্রিক পণ্য রফতানি করেছে। গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের প্রসারকে দেশের বৃহত্তর সামুদ্রিক অর্থনীতি এবং মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) নিয়ম-২০২৫’ এবং ‘হাই সিজ নির্দেশিকা-২০২৫’ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর আওতায় উপকূল থেকে ১২ থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে মাছ ধরার জন্য ‘রিয়েলক্রাফট’ পোর্টালের মাধ্যমে বিনামূল্যে ডিজিটাল ‘অ্যাক্সেস পাস’ দেওয়া হয়। মন্ত্রকের মতে, উপকূলবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত মোট ৯,৬৫০টি অ্যাক্সেস পাস দেওয়া হয়েছে।
২৪ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের যান্ত্রিক নৌযানের ক্ষেত্রে এই পাস বাধ্যতামূলক। তবে স্থানীয় জীবিকা সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ছোট ও অযান্ত্রিক ঐতিহ্যবাহী নৌযানগুলিকে এই নিয়ম থেকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য