জার্মানিতে ধর্মশালার ব্ল্যাক টি-র চাহিদা, ফ্রান্সে জনপ্রিয় উলং ও স্মোক টি
ধর্মশালা, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার পরিচয় হয়ে ওঠা ধর্মশালার চা এখন শুধু দেশের বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বিশেষ পরিচিতি তৈরি করছে। ধর্মশালায় উৎপাদিত ব্ল্যাক টি জার্মানির চা-প্রেমীদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদ
জার্মানিতে ধর্মশালার ব্ল্যাক টি-র চাহিদা, ফ্রান্সে জনপ্রিয় উলং ও স্মোক টি


ধর্মশালা, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার পরিচয় হয়ে ওঠা ধর্মশালার চা এখন শুধু দেশের বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বিশেষ পরিচিতি তৈরি করছে। ধর্মশালায় উৎপাদিত ব্ল্যাক টি জার্মানির চা-প্রেমীদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে উলং ও স্মোক টি-র চাহিদা রয়েছে। পাহাড়ি আবহাওয়া ও স্বতন্ত্র স্বাদের কারণে কাংড়া চায়ের বিভিন্ন প্রজাতি বিদেশের বাজারে আলাদা জায়গা করে নিচ্ছে।

ধর্মশালা চা শিল্পে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯১ হাজার কিলোগ্রাম চা উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৮ হাজার কিলোগ্রাম চা কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে ৫৮ হাজার কিলোগ্রাম চা ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত চায়ের দাম গত বছরের প্রায় একই স্তরে রয়েছে। চা শিল্প কর্তৃপক্ষের আশা, অক্টোবরে বাজারে চাহিদা বাড়লে চায়ের দামও কিছুটা বাড়তে পারে।

ধর্মশালা চা শিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থাপক সুজিত রায় বুধবার জানিয়েছেন, এখানে মূলত ব্ল্যাক অর্থোডক্স টি এবং ব্ল্যাক টি উৎপাদন করা হয়। এর পাশাপাশি গ্রিন টি ও উলং টি-ও তৈরি হয়। তিনি জানান, ধর্মশালার ব্ল্যাক টি জার্মানিতে বিশেষ জনপ্রিয়। ফ্রান্সে উলং টি-র চাহিদা রয়েছে। ধর্মশালায় তৈরি স্মোক টি-ও ফ্রান্সের বাজারে আলাদা পরিচিতি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, কাংড়া চায়ের স্বাদ ও বিশেষ সুগন্ধই তাকে অন্যান্য চায়ের থেকে আলাদা করে তুলেছে। সেই কারণেই বিভিন্ন দেশে এখানকার বিভিন্ন প্রজাতির চা পছন্দ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাংড়া চায়ের চাহিদা বৃদ্ধি স্থানীয় চা শিল্পের জন্যও ইতিবাচক ইঙ্গিত।

অক্টোবরে বাড়তে পারে দাম, উৎপাদন বৃদ্ধিরও আশা

চা শিল্প কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী মাসে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরে গত বছরের তুলনায় বেশি চা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর প্রায় ১.৫০ লক্ষ কিলোগ্রাম চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। আগস্টে বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে আগামী দিনগুলিতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অক্টোবরে চায়ের ভালো দাম পাওয়ারও আশা রয়েছে।

ছয় বছরে চা উৎপাদনে ওঠানামা

২০২০ সালে ধর্মশালা চা শিল্পে ১,৬৯,০২১ কিলোগ্রাম চা উৎপাদন হয়েছিল। ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১,৩৭,৯০০ কিলোগ্রামে। ২০২২ সালে উৎপাদন হয় ১,৪৫,৬৮২ কিলোগ্রাম, ২০২৩ সালে ১,৬৫,০১৩ কিলোগ্রাম এবং ২০২৪ সালে ১,৩৮,০১৭ কিলোগ্রাম। ২০২৫ সালে প্রায় ১,৩৭,০০০ কিলোগ্রাম চা উৎপাদন হয়েছিল। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন প্রায় ১,৫০,০০০ কিলোগ্রামে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

কাংড়া চায়ের জন্য বাজারের এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখন এটি শুধু হিমাচলের স্থানীয় চা হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র স্বাদ ও সুগন্ধের চা হিসেবেও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি তৈরি করছে। জার্মানিতে ব্ল্যাক টি এবং ফ্রান্সে উলং ও স্মোক টি-র চাহিদা কাংড়া চায়ের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande