
দুর্গাপুর, ১৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মোটা টাকার কমিশনের ফাঁদ পেতে নতুন কায়দায় চলছিল 'চিটফাণ্ড'। বছরের পর বছর ধরে প্রতিবেশীদের কষ্টার্জিত টাকা ফান্ডের নামে আত্মসাৎ করে রাতারাতি উধাও হয়েছিল। অবেশেষে প্রতারিতদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চম্পাকে কেতুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করল দুর্গাপুর কোকওভেন থানার পুলিশ। শুক্রবার ধৃত আকাশী ওরফে চম্পা বাউরীকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন খারিজ করে তিন দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনার অভিযোগে জানা গেছে, মোটা অঙ্কের সুদের লোভ দেখিয়ে মাসিক ফান্ড চালু করেছিলেন দুর্গাপুর পুরসভার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের বীরভানপুরের বাসিন্দা আকাশী ওরফে চম্পা বাউরি। তার মাধ্যমে এলাকার শতাধিক মহিলার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেন তিনি। নিয়মিত টাকা জমালে ভবিষ্যতে মোটা অঙ্কের টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বেশি সুদেরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত বলে অভিযোগ। কেউ সংসারের খরচ সামলে, কেউ দিনমজুরি করে, কেউ পরিচারিকার কাজ করে, আবার কেউ ছোটখাটো ব্যবসা বা অন্যান্য উপায়ে উপার্জন করে সেই টাকা জমা রাখতেন তাঁর কাছে। আশা করেছিলেন অসময়ে কাজে লাগবে। অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এভাবেই একশো'র বেশি মহিলার কাছ থেকে মাসে মাসে টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে জমা পড়া টাকার পরিমাণ নিঃসন্দেহে কয়েক লক্ষ টাকা। কিন্তু আচমকাই সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে শুরু হয় টালবাহানা। আর তাতেই পরিস্থিতি সন্দেহজনক হয়। জমানো টাকা আদায়ের চাপ পড়তেই পগারপাড় চম্পা। সম্প্রতি আচমকাই তিনি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। প্রতারিত মহিলারা খোঁজখবর নিতে চম্পার স্বামী ও তাঁর বাপের বাড়িতে গেলেও সেখানে তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। কার্যত এলাকায় তাঁর টিকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। আর তাতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রতারিতরা। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বীরভানপুর এলাকার প্রতারিত মহিলারা কোকওভেন থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপর একজোট হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিতরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তার মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতে পুর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গেছে, পাড়ার মহিলাদের টাকা ফেরতের ক্ষোভের মুখে পড়ে কেতুগ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, চম্পার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তদন্ত চলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা