
মুর্শিদাবাদ, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’-র রাজ্য সম্পাদক তথা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী আশিক ইকবালকে গ্রেফতা করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে আরও দু'জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে দু'টি .৩০৩ বোরের পিস্তল, চার রাউন্ড কার্তুজ এবং ৫০০ টাকা মূল্যের ১০৮টি ভারতীয় জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হরিহরপাড়া থানার পুলিশ ভাকুড়ি-আমতলা রাজ্য সড়কে নাকা চেকিং শুরু করে। তল্লাশিকালে একটি স্করপিও গাড়িকে আটকে তল্লাশি চালানো হলে, গাড়ির ভেতরে থাকা একটি ব্যাগ থেকে দু'টি পিস্তল, চার রাউন্ড কার্তুজ এবং ৫০০ টাকার ১০৮টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকেই গাড়িতে থাকা বাবলু শেখ এবং সুখবর মোল্লা ওরফে আশিক ইকবালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে গাড়িতে মাইনুল শেখ এবং হাবিবুর রহমান ওরফে বাচ্চু নামের আরও দু'জন উপস্থিত ছিল। তবে গাড়িটি থামানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয়।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অস্ত্র আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার উভয় অভিযুক্তকে বহরমপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, হরিহরপাড়া থানা এলাকার রুকুনপুরের কেবলরামপুরের বাসিন্দা আশিক ইকবাল এলাকায় হুমায়ুন কবীরের ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত। রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচার কার্যের জন্য দলীয় স্তরে তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
আমজনতা উন্নয়ন পার্টির রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনী প্রার্থী তথা হুমায়ুন কবীরের পুত্র গোলাম নবি আজাদ রবিন রাজ্য সম্পাদকের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি শুনেছি কাল রাতে পুলিশ আমাদের পার্টির রাজ্য সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে কী কারণে এই গ্রেপ্তার, তা এখনও আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত রবিবার রাতে বেলডাঙা-১ নম্বর ব্লকের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি মোনায়েম বিশ্বাসকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর পুনরায় দলের রাজ্য সম্পাদকের গ্রেফতারে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রবিন আরও জানান, সম্প্রতি তাঁর পিতা হুমায়ুন কবীর শক্তিপুর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছিলেন। সেই সময় আকবর শেখ নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি তাঁকে চা খাইয়েছিলেন, কেবল এই 'অপরাধে' তাঁকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে (পরে তিনি জামিন পান)। রেজিনগরে তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর পুলিশের হেনস্থা অব্যাহত থাকলেও দল নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি