
নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.): আমেরিকায় থাকা ব্যক্তিদের টেক সাপোর্ট দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চালানো একটি চক্রের হদিস পেয়েছে আইএফএসও। পুলিশ পীতমপুরায় ভাড়া নেওয়া বাড়িতে চলা একটি ভুয়ো আন্তর্জাতিক কল সেন্টারে হানা দিয়ে দুই মহিলা-সহ ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে ৪১ লক্ষ টাকা নগদ, ২৯টি ল্যাপটপ, ২৫টি মোবাইল ফোন, আটটি রাউটার এবং একটি গাড়ি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এই চক্র প্রায় ১০০ কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর আইএফএসও-র কাছে পীতমপুরা এলাকায় বেআইনি আন্তর্জাতিক কল সেন্টার চালানোর খবর আসে। এসিপি প্রেমচন্দ্র খান্ডুরির নেতৃত্বে ইনস্পেক্টর দাতারাম-সহ পুলিশের একটি দল শিবাজি মার্কেট, পীতমপুরা গ্রামের ২৪৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় হানা দেয়। সেখানে ১১ জনকে কল সেন্টার চালাতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা টেক সাপোর্ট কর্মী সেজে আমেরিকার বাসিন্দাদের ফোন করত।
তদন্তে জানা গিয়েছে, চক্রটির ব্যাকএন্ড নেটওয়ার্ক প্রথমে আমেরিকার নাগরিকদের কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার পাঠাত। এরপর তাঁদের কম্পিউটারের স্ক্রিনে একটি পপ-আপ দেখা যেত। সেখানে প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য একটি টোল-ফ্রি নম্বরে ফোন করতে বলা হত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফোন করলে সেই কল পীতমপুরার কল সেন্টারে বসে থাকা এজেন্টদের কাছে পৌঁছে যেত।
এজেন্টরা নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে জানাত, তাঁর কম্পিউটারে ভাইরাস রয়েছে এবং তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বিপদের মধ্যে রয়েছে। এরপর আল্ট্রা ভিউয়ার ইনস্টল করিয়ে কম্পিউটারের রিমোট অ্যাক্সেস নিয়ে নেওয়া হত। পরে ওই ব্যক্তির ফোন একটি কথিত ভুয়ো ব্যাঙ্ক আধিকারিকের কাছে ট্রান্সফার করে দেওয়া হত।
ভুয়ো ব্যাঙ্ক আধিকারিক আমেরিকার নম্বর থেকে যোগাযোগ করে প্রতারিত ব্যক্তিদের আইটিউনস, সেফোরা, টার্গেট এবং গুগল পে-র গিফট কার্ড কিনতে বলত। কিছু ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেও বলা হত। গিফট কার্ডের তথ্য পরে চক্রের সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো হত। সেখান থেকে ওই কার্ডের টাকা ভাঙিয়ে নেওয়া হত।
পুলিশের মতে, কয়েকজন প্রতারিত ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর জন্য এফবিআই এবং অন্যান্য মার্কিন সংস্থার নামে ভুয়ো নথিও পাঠানো হত। কল সেন্টারের কর্মীরা উইলিয়ামস, রায়ান, সোফি, জেনি এবং অ্যালেক্সের মতো ভুয়ো নামে কথা বলত।
এই ঘটনায় স্পেশাল সেল থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশের দাবি, ভারতে ও বিদেশে থাকা চক্রের আরও কয়েকজনের পরিচয় ইতিমধ্যে জানা গিয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য তদন্ত চলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য